আজ কথাসাহিত্যিক মনোজ বসুর মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কথাসাহিত্যিক মনোজ বসুর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ১:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২০

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মনোজ বসু ১৯৮৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৮৬ বছর বয়সে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।  ১৯০১ সালের ২৫ জুলাই কথাসাহিত্যিক মনোজ বসু যশোর জেলার ডোঙ্গাঘন্টা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রামলাল বসু। মাত্র আট বছর বয়সে মনোজ বসু পিতৃহারা হন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি কাকার তত্ত্বাবধানে লালিত পালিত হন।

স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে লেখাপড়া শেষ করে মনোজ বসু উচ্চ লেখাপড়া শেখার জন্য কলকাতায় চলে আসেন। কোলকাতায় এসে তিনি কলকাতা রিপন কলেজিয়েট হাইস্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই তিনি ১৯১৯ সালে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পাস করেন।

এরপর তিনি খুলনার বাগেরহাটে এসে বাগেরহাট কলেজে এফএ ক্লাসে ভর্তি হন। এই কলেজ থেকেই তিনি ১৯২২ সালে এফএ পাস করে আবার কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় এসে তিনি সাউথ সুবার্বন কলেজে ভর্তি হন এবং এই কলেজ থেকেই তিনি ১৯২৪ সালে বিএ পাস করেন।

কলেজে ছাত্র থাকা কালীন মহাত্মা গান্ধীর ডাকা অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯২৪ সালে বিএ পাস করার পরেই তিনি কলকাতা সাউথ সুবার্বন স্কুলে শিক্ষক পদে যোগদান করেন। স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি পুস্তক প্রকাশনা ব্যবসা চালিয়ে যান। গ্রন্থ প্রকাশনা ব্যবসায় তিনি প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন। গ্রন্থ প্রকাশনার সাথে সাথে তিনি নিজেই উপন্যাস লেখা শুরু করেন।

তার প্রতিটি উপন্যাসে দেশ, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের দৈনন্দিন খুঁটিনাটি সমস্যা ও গ্রাম বাংলার নিসর্গ ও গ্রামীন মানুষের জীবনাচরণ চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। গ্রামীন মানুষের জীবনাচরণ কথাসাহিত্যিক মনোজ বসুর উপন্যাস এর মূল ভিত্তি।

সমকালীন সমাজব্যবস্থা, দেশের রাজনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের আলেখ্য তার সাহিত্যে নিপুণভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তার নিজস্ব শিল্প কুশলতার পরিচয় পাওয়া যায়। আত্মস্বার্থহীন মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি তার গল্প-উপন্যাসে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্য ও আন্তরিকতার সাথে অংকন করেছেন।

তার রচিত গল্প-উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই তিনি অত্যন্ত সহজ, সরল ভাষায় প্রতিটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। এর জন্যই তাঁর গল্প উপন্যাসগুলো প্রতিটি পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো-

উপন্যাস: ভুলিনাই (১৯৪২), সৈনিক (১৯৪৬), জলজঙ্গল (১৯৫১), বৃষ্টি বৃষ্টি (১৯৫৭), আমার ফাঁসি (১৯৫৯), রক্তের বদলে রক্ত (১৯৫৯), মানুষ গড়ার কারিগর (১৯৫৯), রূপবতী (১৯৬০), বন কেটে বসত (১৯৬১), নিশিকুটুম্ব (১৯৬৩), পথ কে দেখাবে।

গল্পগ্রন্থ: বনমর্মর (১৯৩২), নববাঁধ (১৯৩৩), দেবী কিশোরী (১৯৩৪), পৃথিবী কাদের (১৯৪০), একদা নিশীথ কালে (১৯৪২)। নাটক: প্লাবন, নতুন প্রভাত, রাখিবন্ধন ও শেষলয়।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।