আড়াই শতাধিক অবৈধ মাছ ধরার ট্রলার, বছরে কোটি টাকার ভাগবাটোয়ারা!

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

বুরহান উদ্দিন (নোয়াখালী প্রতিনিধি): নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছোট ফেনী নদী, ফেনীর শাখা নদী ও বামনীয়া নদীতে প্রায় আড়াই শতাধিক লাইসেন্স বিহীন অবৈধ মাছ ধরার ট্রলার বছরে শত কোটি টাকার মাছ শিকার করে আসছে। এতে সরকার বছরে কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রেগুলেটর ঘাট ও চর এলাহী ঘাটে এসব ব্যক্তি-মালিকানাধীন ট্রলার, ইঞ্জিন চালিত ও ইঞ্জিনবিহীন কাঠের নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করে থাকে। এছাড়াও গভীর নদীতে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক বড় ট্রলার দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার মাছ শিকার করা হয়। এসব ট্রলারের মালিক উপজেলার রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

নদীপথে সন্দ্বীপ চ্যানেল দিয়ে মীরসরাই, সোনাগাজী ও সন্দ্বীপ থেকে ট্রলারে এসে মাছ শিকার করে থাকে। এসব নৌকা ও ট্রলারগুলোই আবার জলদুস্যতা, বনদস্যুতা, জেলেদের মাছ লুট করাসহ নানা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের সাথে জড়িত।

মৎস্য অফিস সূত্রমতে, আইরিন ট্রেডার্স নামের উপজেলার চরফকিরার আমিনুল ইসলামের মালিকানাধীন মাছ ধরার ট্রলারের লাইসেন্স ব্যতীত প্রায় আড়াই শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার, মাঝি, মিস্ত্রি, ইঞ্জিনচালিত নৌকার লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র নেই।এদের কারও বৈধভাবে মাছ শিকার করার কোনো অনুমতিও নেই।

ট্রলার লাইসেন্সের জন্য আবেদন চালান ফরমের মাধ্যমে কোড নং-১-৪৪৩১-০০০০-১৮৫১-এ টাকা জমা দিয়ে লাইসেন্স করতে হয়। মাঝি ও মিস্ত্রির লাইসেন্সের জন্য কোড নং-১-৪৪৩১-০০০০-১৮৫৪-তে টাকা জমা দিয়ে লাইসেন্স ও মাছ ধরার বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার পরই মাছ শিকার করতে পারে বলে সরকারি বিধি থাকার পরও এর কোনো তোয়াক্কা করছে না কেউ।

এসব দেখভাল করার জন্য এখানে নদীপথে কোস্টগার্ড  নিয়োজিত থাকলেও অবৈধ ট্রলার দিয়ে মৎস্য সম্পদ হরিলুটের বিষয়ে রহস্যজনক কারণে কোস্টগার্ড কোনো পদক্ষেপ নেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, আড়াই শতাধিক মাছ ধরার অবৈধ ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা সংস্থা, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক প্রভাবশালীদের জন্য বছরে কোটি টাকা চাঁদা সংগ্রহ এবং বণ্টন করা হয়।

কোস্টগার্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে কোস্টগার্ডের মাঝি হিসেবে এখানে কর্মরত হারুন মাঝি। তবে হারুন মাঝি চাঁদা সংগ্রহের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। চাঁদা সংগ্রহের বিষয়টি প্রমাণিত হলে যে কোনো শাস্তি মেনে নেবেন তিনি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোস্টগার্ডের উড়িরচর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার পেটি অফিসার মো. হারুন অর রশীদ জানান, এখানে নামযুক্ত কোনো মাছ ধরার ট্রলার নেই। যেগুলো আছে সব ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট।

এসবের লাইন্সেসের বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরে কাগজপত্র দেয়া আছে বলে তার অধীনে কর্মরত নৌকার মাঝি হারুন তাকে জানিয়েছেন। কোস্টগার্ডের মাঝি হারুনের বিরুদ্ধে আনীত চাঁদাবাজির অভিযোগ

তিনি অস্বীকার করে বলেন, হারুন মাঝির তথ্য মোতাবেক অবৈধ কারেন্ট জাল, বিন্তি জাল, মশারি নেট জব্দ করেন এবং গত মাসে প্রায় এক লাখ মিটার জাল পোড়ানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন মাঝির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি অভিযোগ আনা হচ্ছে।

মাছ ধরার অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা নেই বলে জানান তিনি ও এসব দেখভাল করার বিষয়ে তিনি মৎস্য অধিদফতরের কথা উল্লেখ করেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন খন্দকার জানান, লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে এসব মাছ ধরার ট্রলার, ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে বছরে শত কোটি টাকার মাছ আহরণ করা হয়। এসব মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

এসব অবৈধ মাছ ধরার ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে যে হারে মাছ নিধন করা হয়,বর্তমান বাজার মূল্য কয়েকশ কোটি টাকা হবে তা। আর এ খাত থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউল হক মীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,মাছ ধরার ট্রলার, মাঝি-মিস্ত্রির লাইসেন্সের বিষয়টি যাদের ওপর দেখার দায়িত্ব, তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কিনা, তা জেনে দেখতে হবে।

এ বিষয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা চাইলে তাও করা হবে। এরপরও যদি অবৈধ ট্রলার দিয়ে মাছ শিকার করা হয় এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।