উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ২৫ শহরে কারফিউ

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিক্ষোভ,সংঘর্ষ,ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখন ছড়িয়ে পড়ছে সব ভয়াবহতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কর্তৃপক্ষ ১৫টি রাজ্যের কমপক্ষে ২৫টি শহরে কারফিউ জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-

মিনিয়াপোলিস, সেইন্ট পল, আটলান্টা, লস অ্যানজেলেস, ফিলাডেলফিয়া,পোর্টল্যান্ড, লুইসভিলে, বেভারলি হিলস, ডেনভার,মিয়ামি,শিকাগো,রোচেস্টার,সিনসিনাতি,কলম্বাস ক্লিভল্যান্ড,ডেটন,টোলেডো,পিটসবার্গ,চার্লস্টোন,কলাম্বিয়া, নাশভিলে, সল্ট লেক সিটি, সিয়াটল ও মিলওয়াউকি।

এতে বলা হয়, কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে সবশ্রেণির মানুষ করোনাভাইরাস কা মহামারির ভয়কে উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন।

এ জন্য তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে নামানো হয় দাঙ্গা পুলিশ, ন্যাশনাল গার্ড। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ছে ছত্রভঙ্গ করার জন্য।কিন্তু থামছে না বিক্ষুব্ধ জনতা।এ সহিংসতার জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প লুটেরা ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের দায়ী করেছেন।

সোমবার মিনিয়াপোলিসে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক জর্জ ফ্লয়েড পুলিশি নির্যাতনে মারা যান। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে সোমবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

তাকে নির্যাতনের দৃশ্যসম্বলিত ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বেশ কয়েক মিনিট জর্জ ফ্লয়েডের কাঁধে হাঁটু গেঁড়ে বসে থাকতে দেখা যায় পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনকে। দ

এ সময় তার অন্য দু’জন সহযোগি একই কাজ করে। পাশে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করে আরো এক পুলিশ সদস্য। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসায় বাঁচার কাঁকুতি জানাতে থাকেন জর্জ ফ্লয়েড। তার শেষ আর্তি ছিল ‘আই ক্যান্ট ব্রিদ’।

অর্থাৎ আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। এরপর তাকে একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ জন্যই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ৩০ টি শহরে। ফ্লয়েডকে নির্যাতনে যুক্ত চার পুলিশের বিরুদ্ধেই বিচার চায় বিক্ষোভকারীরা।

শিকাগোতে বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশকে ইটপাটকেল ছুড়েছে। জবাবে পুলিশ তাদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে। লস অ্যানজেলেসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। জবাবে বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের মতো হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভ করেছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। আটলান্টা, জর্জিয়ায় শুক্রবার বেশ কিছু ভবনে ভাঙচুর করা হয়েছে।

সেখানে জানমালের নিরাপত্তা দিতে কিছু এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। মিনিয়াপোলিস, নিউ ইয়র্ক, মিয়ামি, আটলান্টা এবং ফিলাডেলফিয়াতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে।

এসব শহরে কারফিউ দিলেও তা ভঙ্গ করে অনেক মানুষ বিক্ষোভ করছেন। ব্যাপকহারে চলছে লুটপাট। শুক্রবার দিনশেষে মিনেসোটায় মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক শত ন্যাশনাল গার্ড। এটি একটি রিজার্ভ বাহিনী।

তাদেরকে শুধু মোতায়েন করার আহ্বান জানাতে পারেন প্রেসিডেন্ট অথবা রাজ্যের গভর্নররা। গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মিস্টার ফ্লয়েডের মৃত্যু আমেরিকানদের ভয়াবহতা, ক্ষোভ আর বেদনায় ভরিয়ে দিয়েছে। একজন বন্ধু হিসেবে আমি আপনাদের পাশে আছি। প্রতিজন আমেরিকান শান্তি চান।তাদের জন্য মিত্র হিসেবে পাশে আছি।

ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ইলোন মাস্ক স্পেসএক্স কোম্পানি থেকে নাসার দুইজন নভোচারীকে মহাশূন্যে পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লুটপাট ও নৈরাজ্যের নিন্দা জানান। বলেন, এর মধ্য জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি অসম্মান দেখানো হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, এ সময় যা দরকার ছিল তা হলো ক্ষতকে সারিয়ে তোলা, ঘৃণা নয়। প্রয়োজন হলো ন্যায়বিচার, বিশৃংখলা নয়। তাই আমি দাঙ্গা চলতে দিতে পারি না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সময় দায়ী করেন মিনিয়াপোলিসের মেয়রকে। ওই শহরের মেয়র একজন ডেমোক্রেট। ট্রাম্প বলেন, যদি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হবে বলে জানান।

অন্যদিকে একগুঁয়েমি করে বিক্ষোভে জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট দলের জো বাইডেন। তিনি দাবি তুলেছেন, যারা ফ্লয়েড হত্যায় দায়ী তাদেরকে অবশ্যই বিচারাধীন আনতে হবে। সিএনএন, বিবিসি

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ