এবার করোনারভাইরাসের সঙ্গে ‍বাড়ছে ডেঙ্গুর আতঙ্ক

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০২০

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনার আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরোদমে। তথ্যমতে এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জেলায়। মারা গেছেন আট জন। এরই মধ্যে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ট শহরবাসী।

করোনা দুর্যোগের মধ্যে ডেঙ্গুর আতঙ্ক ভর করেছে। দ্রুত ব‌্যবস্থা না নিলে পরিণতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৩৮৫ জন জন। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ২ দুই হাজারের বেশি।

গতবছর এই সময়ে জেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাই অনেকে মনে করে করোনাকালে জ্বর, সর্দি বা শরীর ব্যথা হলে শুধু করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করাটাই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি সঙ্গে ডেঙ্গু আছে কিনা সেটাও পরীক্ষা করে দেখা উচিত। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলি-গলিতে ড্রেনে মশার বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য ছোট ছোট গর্ত ও ময়লা-আর্বজনার স্তূপে পানি জমছে। পলিথিন এবং প্লাস্টিকের আবর্জনা পানি জমে মশার উৎকৃষ্ট প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এই জায়গাগুলো।

পৌরবাসিন্দারা জানান, দিনের বেলাতেও মশা কামড়ায়। ঘরে টেকা মুশকিল হয়ে পড়ে। বাধ‌্য হয়ে দিনেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। যেভাবে মশার উপদ্রব বাড়ছে এতে ডেঙ্গুর আতঙ্ক বাড়ছে। গতবছরও এ সময়ে ডেঙ্গুর প্রভাব ছিল কিশোরগঞ্জে।

এখন পর্যন্ত মশা নিধনের কোনও ওষুধ এলাকাতে দেওয়া হয়নি বলে বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন। একদিকে করোনা আতঙ্ক তারমধ‌্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক। আমরাতো এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। শহরের অনেক জায়গা অস্বাস্থ‌্যকর পরিবেশ ও নর্দমা। যার কারণে দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মশার এমন অত‌্যাচার।

পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলার সঙ্গে সঙ্গে এরইমধ্যে আমরা শহরের বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন কার্যক্রমও শুরু করছি। এ ছাড়া ফগার মেশিনের মাধ‌্যমে শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও ড্রেনে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি আমরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যে মেডিসিন ব্যবহার করে সেগুলোই সংগ্রহ করে এনেছি।

সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, এখন যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রভাবও বাড়বে। গত বছর এমন সময়ে ডেঙ্গুর একটা প্রভাব ছিল। আর তাই পরীক্ষা জন‌্য ডেঙ্গুর কীট আনা হয়েছিল। এর মধ‌্যে এখনও আমাদের কাছে বেশকিছু কীট রয়েছে। সেগুলো আমাদের এমন দুর্যোগে কাজে আসবে।

তাছাড়া অনেক জায়গায় এটা কিনতে জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া আছে। ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ‌্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতিও নিয়েছে। তবে এমন সময়ে সাধারণ মানুষকেও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ