এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকদের সুখবর

এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকদের সুখবর

প্রকাশিত: ৭:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

উচ্চ আদালতের নির্দেশে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত আইসিটি-ইংরেজিসহ মহিলা কোটায় সহকারী শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জটিলতা নিরসন আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এনটিআরসি’র মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার ১ বছর এর বেশি পরও এমপিওভুক্ত হতে পারছিলেন না কয়েকশ নিবন্ধিত শিক্ষক। তথ্য অনুযায়ী এনটিআরসিএর দ্বিতীয় চক্রে নিয়োগ সুপারিশে আট শতাধিক প্রার্থী এমপিওভুক্ত হতে পারেনি।

তাদের হতাশার মূল কারণ ভুল তথ্য দেয়া শূন্যপদে নিয়োগ সুপারিশ, মহিলা কোটা, নবসৃষ্ট পদ, প্যাটার্ন বহিভূর্ত পদে নিয়োগ সুপারিশ সর্বোপরি ভুল তথ্য দেয়া শূন্যপদে নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ায় এ জটিলতা সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ৯ জুন মাসে তাদের সব জটিলতা নিরসনে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকে নবসৃষ্ট পদ ও মহিলা কোটার সমস্যায় এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকদের জটিলতা নিরসনের আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভৌত বিজ্ঞান ব্যবসায় শিক্ষা এবং ইংরেজিসহ বিভিন্ন নবসৃষ্ট পদে এনটিআরসিএর দ্বিতীয় নিয়োগ চক্রে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিধি-যোগ্যতা মোতাবেক নির্ধারিত অর্থবছর থেকে এমপিওভুক্ত হতে পারবেন।তারা এমপিওর আবেদনের দিন থেকে এমপিও পাবেন।তবে, এ জটিলতায় ভুক্তভোগীরা বকেয়া পাবে না বলেও আদেশে বলা হয়েছে।

মহিলা কোটার জটিলতায় ভুক্তভোগী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বহাল থাকবেন। তারা প্রচলিত বিধি ও যোগ্যতা অনুসারে এমপিওভুক্ত হতে পারবেন।

তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কে মহিলা কোটা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবশ্যিকভাবে মহিলা শিক্ষক প্রয়োজন উল্লেখ করে এনটিআরসিএকে চাহিদা দিতে হবে। তবে ননএমপিও প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

এ সমাধান শুধুমাত্র এনটিআরসিএর মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত নিয়োগ সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অনলাইন আবেদনের তারিখ থেকে তাদের এমপিও কার্যকর হবে।

গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ পেয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে অনেক প্রার্থীই নানা জটিলতায় এমপিওভুক্ত হতে পারেনি।

প্রার্থীদের মতে শূন্যপদের ভুল তথ্য দেয়ায় এমপিওভুক্তি এসব শিক্ষকের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। মহিলা কোটা ও নবসৃষ্ট পদের নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ায় প্রার্থীরা এমপিওভুক্ত হতে পারছিলেন না।

এদিকে গত ৯ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম অবহিতকরণ সভায় ভুক্তভোগী এসব শিক্ষকদের জটিলতা নিরসনে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে শিক্ষকের জটিলতা নিরসনে আদেশ জারি করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পৃথক তিন আদেশে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ এর ১১.৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা পূর্বের কোনো বকেয়া সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন না।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের একাডেমিক সনদ, নিবন্ধন সার্টিফিকেট ও এনটিআরসিএর সুপারিশ যথাযথ থাকলে ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো-২০১৮ এর শূন্যপদে কর্মরত থাকলে তাদের এমপিওভুক্তি অনলাইনে আবেদনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন বলেছেন, বহু প্রতিক্ষার পর শিক্ষকদের জটিলতা নিরসন করা সম্ভব হল। জটিলতা যাতে দ্রুর নিরসন করা হয় তাই ভুক্তভোগী শিক্ষকদের এমপিও আবেদনের দিন থেকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আদেশ জারি করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন জটিলতায় ছিলেন। এখন তাদের জটিলতা কাটলো।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।