এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল

এমপি পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

মানবপাচারের দায়ে কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপিদলীয় এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, কুয়েতের নাগরিক হিসেবে এমপি পাপুল সেখানে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একই সঙ্গে দুই দেশের নাগরিক হলে তিনি সংসদ সদস্যপদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন।

হারুন বলেন, পাপুল বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে যাননি। তিনি কুয়েতের নাগরিক কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি দাবি জানান হারুন।

এ বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি পাপুল সম্পর্কে বলেন, দ্বৈত নাগরিক প্রমাণ হলে নিয়ম অনুযায়ী তার আসন খালি করে দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশেও তদন্ত চলছে।

টুইটারে দেওয়া কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মানবপাচার, অর্থপাচার ও কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কুয়েতের নাগরিক নন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কুয়েতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে যে তথ্য প্রচার হচ্ছে তা সঠিক নয়। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রচারের সময় সব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সঠিক তথ্য প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বাংলাদেশের এমপি ও কুয়েতের রেসিডেন্ট পারমিটধারী ব্যবসায়ী কাজী শহীদ পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েত সিটির মুশরিফ এলাকার বাসা থেকে আটক করে সেদেশের সিআইডি। পরে তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও প্রায় ৫৩ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার (প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) পাচারের বিষয়ে তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পর এবং জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর এমপি পাপুল কুয়েতের অপরাধ তদন্ত সংস্থার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও কুয়েতের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে তার ব্যবাসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করার জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে কুয়েত সরকার।

পাপুল কাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতোমধ্যে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পাপুলের অর্থ ও মানব পাচারে সহযোগিতা করার অভিযোগে কুয়েতের দুই এমপিকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে দেশটির অপরাধ তদন্ত সংস্থা।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।