কদমলীতে মা-বাবা-বোন হত্যার দায়ে মেহজাবিন গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২১

রাজধানীর কদমলীতে বাবা, মা ও মেয়ে হত্যার ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক বড় মেয়ে মেহজাবিনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (২০ জুন) সকালে কদমতলী থানার পরিদর্শক অপারেশন জাকির হোসেন এ তথ্য জানান।

এই মামলায় আসামি করা হয় দুজনকে। তারা হলেন মেহজাবিন ও তার স্বামী শফিকুল। শফিকুল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। জাকির হোসেন জানা, মেহজাবিনকে আজ আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ। ক্ষোভ থেকেই তিনি মা, বাবা ও বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন মেহজাবিন।

হত্যাকাণ্ড নেপথ্যের কারণ হিসেবে মেহজাবিন পুলিশের কাছে জানিয়েছে, তার বাবা মাসুদ রানা ১২ বছর ধরে বিদেশে ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। কিন্তু ওই সময় তার মা মৌসুমী তাকে ও তার ছোট বোনকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতো। এরই মধ্যে মাহজাবিনের বিয়ে হয়ে যায়।

কিন্তু তার মায়ের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। ছোট বোনকে দিয়েও চালাচ্ছিল সেই কাজ। বাধ্য হয়ে মাহজাবিন তার ছোট বোনকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সম্প্রতি তার মা ছোট বোনকে নিয়ে আসেন এবং আবারও একই কাজ করতে বাধ্য করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মেহজাবিন তার মাকে নিষেধ করেন এবং সেটি বন্ধেরও অনুরোধ করেন। কিন্তু মা শুনছিল না।

মেহজাবিনের বরাত দিয়ে পুলিশ জনায়, শুক্রবার রাতে সে স্বামী ও তার বাচ্চাকে নিয়ে বাবার বাড়ি আসে। এরপর রাতে খাবারের সঙ্গে বাসার বৃদ্ধা দাদী ছাড়া সকলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। এক পর্যায় তারা অচেতন হয়ে পড়লে সে বাবা, মা ও বোনের হাত বা বেধে তাদের হত্যা করে।

এরপর সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করে। কল করে মেহজাবিন বলেন, তিন জনকে মেরে ফেলছি। আরও দুজন আছে। তারা জীবিত। তাদের জীবিত নিতে চাইলে দ্রুত চলে আসেন। এরপর মেহজাবিন বাসার ঠিকানাসহ বলেন। পরে পুলিশ গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। বাকি দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।