ফাইল: ছবি

করোনায় মৃত্যু খবরে লক্ষ্মীপুরে ছুটে চলে ২৫ তরুণ

প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা: বয়সে তরুণ সবাই। দিন বা রাত, কোথাও যেন ক্লান্তি নেই তারুণ্যের। করোনা সংক্রমণে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যু, যাই হোক। মৃত্যু খবর এলেই ছুটেচলে ওরা।

করোনা বিপর্যয়ে কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষের পাশেও দু’ হাত বাড়িয়ে এগিয়ে যান নিজেদের সামর্থমতো। বলছিলাম, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বিপর্যয়ে লক্ষ্মীপুরে করোনায় মৃতদের লাশ দাফন ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করা একদল স্বেচ্ছাসেবী তরুণের কথা।

এ তরুণদের দলে রয়েছে ২৫ জন সদস্য। সদস্যদের অধিকাংশই স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী হলেও তারা কাজ করে ইত্তেহাদুন নাস ফাউন্ডেশন (ইনাফা) ও সবুজ বাংলাদেশ নামে দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছায় এমন কাজ করায় দলমত নির্বিশেষে মানুষ তাদের কাজের জন্য প্রশংসা করছে।

শনিবার গভীর রাতেও করোনায় মৃত্যুবরণকারী একজনের দাফন করে তারা। এনিয়ে, এখন পর্যন্ত ১৩ জনের লাশ দাফন করেছে তারা। এদের অধিকাংশই করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে মারা যান।

জানাগেছে, লক্ষ্মীপুরে করোনা বিপর্যয়ের এ সময়ে সবুজ বাংলাদেশ ও ইত্তেহাদুন নাস ফাউন্ডেশন (ইনাফা) নামে এ দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে লাশ দাফনে কাজ করছে।

দু’টি সংগঠনের ২৫ সদস্যকে তিনভাগে বিভক্ত করে ৩টি টিমের মাধ্যমে করোনায় মৃতদের লাশ দাফন করছে তারা। একজনের লাশ দাফনের সময়ে দু’টি সংগঠনের ৮ থেকে ৯জন সদস্য অংশ নিচ্ছে। একটি টিমে ৮ থেকে ৯ জন সদস্য রয়েছে।

তাদেরে একটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে, তাতে মৃত্যুর খবর পেলেই তাদের ৮-৯  জনের একটি টিম লাশের গোসল ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও প্রশাসন ও বিভিন্নজনের কাছ থেকে খবর পেলেই তারা ছুটে যান।

টিমের যাতায়াতের জন্য গাড়ি দিয়ে সহযোগীতা করছেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু। বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে সহযোগীতা করছেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের সদস্য মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী।

সবুজ বাংলাদেশ ও ইনাফা সদস্যরা হলেন ইসমাইল হোসেন বাবু,জালাল উদ্দীন রুমি, তফসির আহমেদ, মিজানুর রহমান, আবু তালেব, নজরুল ইসলাম জুয়েল, রাকিব ভূঁইয়া, জাকির হোসেন, ইমরান, শুভ, বাপ্পিসহ মোট ২৫ জন সদস্য।

এ দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা জানান, স্বেচ্ছায় লাশ দাফন ছাড়াও তারা তাদের সাধ্যমতো সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানায় এ মানবিক তরুণরা।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ