করোনা উপেক্ষা করে মুছাপুর ক্লোজারে হাজার হাজার পর্যাটকের ঢল

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২০

বুরহান উদ্দিন (নোয়াখালী প্রতিনিধি): ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। আর এই আনন্দকে একটু বাড়তি উপভোগ করতে মানুষ ছুটে চলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে মুক্ত পর্যাটন স্পর্ট গুলোতে।

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বড় বড় পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও উন্মুক্ত আছে ছোট ছোট স্পটগুলো। তাই দীর্ঘদিন বন্দি থাকার স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে চলছেন ভ্রমণ স্পটগুলোতে।

নোয়াখালী অন্যতম বৃহৎ পর্যটন স্পট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ক্লোজার। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে হাজার হাজার মানুষ ঘুরতে আসছে মুছাপুর ক্লোজারে।

রবিবার সকাল থেকে ক্লোজারে ভ্রমণ পিপাসুদের ভীড় বাড়তে থাকে। বিকেলে তা প্রকড় আকার ধারণ করে। মানুষের ভীড়ে প্রায় কয়েক কিলোমিটার যানচলাচল বন্ধ থাকে। মানুষ পায়ে হেঁটে যাওয়া শুরু করে।

নোয়াখালী ছাড়াও ফেনী, মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, লক্ষীপুর সহ আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ভীড় করে ক্লোজার সহ আসপাশের এলাকায়।

সীতাকুণ্ডে থেকে আসা এক পর্যাটক বলেন, সকালে একটি ফিকাপ ভাড়া করে তারা ঈদের ছুটিতে সীতাকুণ্ড থেকে মুছাপুর ঘুরতে আসেন। এবং বন্ধু বান্ধব নিয়ে অনেক মজা করেছেন বলে জানান।

আরেক পর্যটক বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে তারা খুব ভয়ে আছেন। নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যটক স্পট হিসেবে মুছাপুর ক্লোজারকে ঘোষণা দেয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।

এ বিষয়ে মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম শাহীন চৌধুরী বলেন, আমরা মুছাপুরকে দেশের অন্যতম একটি পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ার জন্য সকল চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি জানান দ্রুতই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঘোষণা আসবে।

পর্যাটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে সবকিছু প্রস্তুত আছে। এবং বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিরাপত্তার জন্য লোক নিয়োগ করা হয়েছে এবং পর্যাটকদের জন্য যে কোন সহযোগিতা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে করার জন্য প্রস্তুত আছেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আরিফুল ইসলাম
মুঠোফোনে জানান, পর্যাটকদের যে কোন নিরাপত্তা এবং সেবাই আমরা কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রস্তুত আছি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা নিয়মিত টহল জোরদার রাখছি।

উল্লেখ্য যে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মুছাপুর ইউনিয়নে মনোমুগ্ধকর জায়গাটির অবস্থান। প্রথম দেখাতে মনে হবে সৈকত। কিছুক্ষণ পরে ভুল ভাঙবে, খুঁজে পাবেন নদীর পাড়। অনেকে এই ক্লোজারকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলে থাকেন। সাগরে যখন জোয়ারের পানি উতলে উঠে, তখন অনন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় মুছাপুর ক্লোজারের ছোট ফেনী নদীতে। ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে যাবে আপনার মনকেও।

মুছাপুর ক্লোজারে সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, নিবিড় বন, গ্রামীণ পরিবেশ, পাখির কোলাহল, মৎস্যজীবি মানুষদের জীবন অন্যরকম এক অনুভূতি দেয়। নানান প্রজাতির পাখির কোলাহল ও বিশাল সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য সকলকে মুগ্ধ করবে। পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীরা ট্রলারে বা স্পীডবোটে করে এই চরে ঘুরতে যান।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।