কাবুল বিমানবন্দরে রকেট হামলা!

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২১

আবারও কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে পাঁচটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। দিও মার্কিন মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে এই রকেটগুলোকে দিকভ্রষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। খবর রয়টার্স।

মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, সোমবার (৩০ আগস্ট) সকালের দিকে এই রকেটগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা এগুলোকে নামানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি তারা। প্রাথমিকভাবে মার্কিনিদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির আরো সংবাদ আসতেও পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে, কাবুলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। শনিবার (২৮ আগস্ট) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, আফগানিস্তানের নানগাহার প্রদেশে অবস্থানরত আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। ড্রোনের মাধ্যমে এ হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। প্রাথমিক তথ্য বলছে, নানগাহারে যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছে, তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়নি বলেও নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলায় ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ মার্কিন সেনা ও ২৮ তালেবান সদস্যও রয়েছে। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এমন দাবি করেছে।

এতে আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। হামলার ঘটনায় বিশ্ব নেতাদের পাশাপাশি নিন্দা জানিয়েছেন তালেবানও। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নিজেদের বেশি সদস্য মারা গেছে বলেও উল্লেখ করেছে গোষ্ঠীটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কাবুল বিমানবন্দর। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান মার্কিন সেনা ও বেসামরিক আফগানরা।

হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরের হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। গোষ্ঠীটির দাবি, মার্কিন সেনা ও তাদের সহযোগীদের লক্ষ্য করেই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কাবুলে একটি আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সিএনএনের খবরে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ছয় শিশু ও একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন- জামারা (৪০), নাসির (৩০), জমির (২০), ফয়সাল (১০), ফারজাদ (৯), আরমিন (৪), বেনিয়ামিন (৩), আয়াত (২) এবং সুমাইয়া (২)।

নিহত এক শিশুর ভাই অভিযোগ করে বলেন, আমরা সাধারণ একটি পরিবার ছিলাম। আমরা জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) নই। এটা আমাদের নিজের বাড়ি।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।