কার টাকা সুইস ব্যাংকে যাচ্ছে

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২১

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের কতজনের টাকা রয়েছে তার একটি হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে কারা অর্থ পাচার করছে- এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন বিভাগ খুব শিগগির তদন্তে নামছে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের কতজনের টাকা রয়েছে তার হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। তবে এই টাকা পাচার সরাসরি বাংলাদেশ থেকে হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে তেমন কিছু উল্লেখ করেনি।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, সুইস ব্যাংকে যে পরিমাণ টাকা রয়েছে তার বেশিরভাগ অংশ পাচার করা। তবে সেই টাকা সরাসরি পাচার হয়নি। বিভিন্ন দেশ ঘুরে এই টাকা পাচার হয়েছে। তবে এই টাকা মূলত কানাডা, মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি ইউরোপের দেশ থেকে সরাসরি সুইস ব্যাংকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কারা এই টাকা পাচার করছে?

এ প্রশ্নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়ী ছাড়াও বেশ কয়েকজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে কারও কারও পরিবার কানাডা বসবাস করছে। আবার কোনো কোনো কর্মকর্তা টাকা পাচার করে সেই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে এনেছেন। যেন কোনো ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয়। তবে সুইস ব্যাংককে নিরাপদ মনে করে সেখানেই রাখছেন টাকা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির জানান, রিপোর্টটি চোখে পড়েছে। আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট রয়েছে। তারা এ বিষয়ে কাজ করে থাকে। এই ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান সময়ের আলোকে জানান, সুইস ব্যাংকে দুটি ক্ষেত্রে কাজ করে, তা হলো অ্যাসেট ও লায়াবিলিটি।

এই লায়াবিলিটিতে যেকোনো দেশের গ্রাহক টাকা জমা রাখতে পারেন। তবে এই ব্যাংকে জমা হওয়া সবই যে পাচার করা টাকা তা হলফ করে বলা যাবে না। আমরা যেহেতু এগমন্ট গ্রুপের সদস্য, তাই অনেক তথ্য চাইলে পাই। তবে সব তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত থাকে। ফলাও করে সব তথ্য দেওয়া হয় না।

তিনি আরও জানান, এই ব্যাংকে জমা রাখা টাকা শুধু বাংলাদেশের নয়, অন্যান্য দেশের নাগরিকেরও টাকা জমা আছে। ২০১৩ সাল থেকে সুইস ব্যাংক বিভিন্ন দেশের জমা হওয়া টাকার তথ্য প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু এই টাকা পাচার করা কি না, এ ব্যাপারে তেমন তথ্য অনেক সময় দেয় না। তবে আগের তুলনায় বাংলাদেশের জমা হওয়া টাকার পরিমাণ কমে আসছে। এর মধ্যে পাচার করা টাকাও রয়েছে। পাচার হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে আবু হেনা

মোহাম্মদ রাজী হাসান জানান, পাচার হতে পারে। সেটার পরিমাণও কমে আসছে। তবে তারা সব তথ্য আমাদের দেয় না। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের কাছে চাইলে দেয়। রিপোর্টটি প্রকাশ হওয়ার পর আমরা আমাদের চ্যানেলে খতিয়ে দেখব। কারণ আমরা মোটেই চাই না, দেশের টাকা পাচার হোক।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের টাকা প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ জানান, আমরা কোনো সূত্র থেকে টাকা পাচারের সংবাদ পেলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখি, অনুসন্ধান করি। সুইস ব্যাংকে কারা টাকা রাখে আর কারাই বা পাচার করে তা আমাদের নজরদারিতে থাকে। আমাদের কাছে কোনো তথ্য এলে তা প্রথমে যাচাই করি।

এরপর তদন্তে নামি। বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হওয়া নিয়ে এখন দুদক ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কাজ করে। অনেক সময় তাদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। প্রকাশিত রিপোর্টে যে তথ্য এসেছে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।

জানা গেছে, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি বাণিজ্যের আড়ালে-আবডালে কোন দেশ থেকে কী পরিমাণ টাকা পাচার হয় তার একটি হিসাব-নিকাশ করে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি ও রফতানির মিথ্যা তথ্য ঘোষণার মাধ্যমে গত কয়েক বছরে প্রায় গড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার করে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে অর্থ পাচার বিষয়ে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে।

সংযোজনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যে পরিমাণ অর্থ আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিং করে পাচার করা হয়েছে তা ভুয়া হিসাবে প্রমাণিত হবে। এরপর থেকে অর্থ পাচার কমে এসেছে বলে দাবি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন আয়কর সদস্যের। তবে পাচার করা টাকা নিয়েও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাজ করে বলে তিনি জানান।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।