কেউ এবার গরিব মারার বাজেট বলেনি: মুস্তফা কামাল

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরা এবারের বাজেটে কৃষিখাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ কোনো না কোনোভাবে আমরা কৃষির সঙ্গে জড়িত।

আমরা সবাই কৃষকের সন্তান। তাই এবার কেউ বলেনি গরিব মারার বাজেট। আমরা কাউকে মারার জন্য বাজেট করি না। মানুষকে রক্ষা করার জন্য বাজেট করছি।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন পরবর্তী ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি আগে ঠিক করা হবে। অর্থ যা লাগবে, তা খরচ করব। আগে খরচ পরে আয়। আগে মানুষকে রক্ষা করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যখাতের পরই আমরা কৃষিতে আগামী অর্থবছরে সবোর্চ্চ নজর দিব।

তিনি বলেন, আমরা ভালো অবস্থায় আছি। সবল অর্থনীতি বিবেচনায় বিশ্বে আমরা নবম। আমাদের ঋণের বোঝা নেই। আমরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমরা দেশের মানুষের জন্য সবকিছু দেব। আমরা ১০০টি বিশেষ জোন করেছি। এখানে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

মহামারি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, এটা আর বেশি সম্প্রসারণ হবে না। ধীরে ধীরে কমে যাবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের এই ক্লান্তিকালে ব্যবসায়ীদের দায়-দায়িত্ব আছে। ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ মানুষকে বাঁচাতে আপনারা এগিয়ে আসেন।

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব বলে আশা ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তা বেড়েছে। আমাদের প্রত্যাশা আগামী অর্থবছরের জন্য যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি অর্জন হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হচ্ছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশে উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ। বিশাল এ ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। চলতি (২০১৯-২০) বাজেটে যা ছিল ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

এমন প্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাত থেকে যে বাড়তি ঋণ সরকার নিচ্ছে, তাতে ব্যাংক খাত সঙ্কটে পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকের কাছে অনেক টাকা থাকতে হবে, তা নট নেসেসারি (প্রয়োজনীয় নয়)।

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্যাংকিং খাত দেখেছি। আমার আগে ব্যাংকের নন-পারফরমিং লোনের পরিমাণ বেশি ছিল। সে কারণে ব্যাংকগুলো মাঝে মধ্যে লক্ষ্য করতাম, তাদের লিকুইডিটির অবস্থা একটু খারাপ হয়ে যেত।

ইদানিং কোনো ব্যাংকের লিকুইডিটি খারাপ, এই কথা শুনিনি। এখন কেউ বলতে পারবে না যে, ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাইনি, ফিরে আসছে। কোনোরকম খারাপ ব্যবহার করেছে গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এটা আমার সময় পাইনি।

এ সফলতা তুলে ধরে প্রশ্নকারী সাংবাদিককে ‘দুই বছর আগে আর দুই বছর পরে’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখারও অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে
অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’শিরোনামে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পূর্বপশ্চিম

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এমএএইচ