কোম্পানীগঞ্জে 'ভিজিএফ' প্রকল্পের চাউল চুরির রহস্য উদঘাটন

কোম্পানীগঞ্জে ‘ভিজিএফ’ প্রকল্পের চাউল চুরির রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৪নং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মো. রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে আনিত ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জিআর প্রকল্প ও ভিজিএফ প্রকল্পের হতদরিদ্রের ১০ বস্তা (৫শ ২০ কেজি) চাল চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে আসল সত্য ঘটনা বের হয়ে আসে।

ঘটনা অনুসন্ধানে কোম্পানীগঞ্জ থানা তদন্ত অফিসার জনাব অফিসার রবিউল হক, উপজেলা পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) জনাব ফজলুল করিম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ( ট্যাগ অফিসার) জনাব শাহ কামাল পারভেজের বক্তব্য এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সফি উল্যা, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ইউপি সদস্য ০৭নং ওয়ার্ড এনামুল হক, প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ও ইউপি সদস্য ০৫ নং ওয়ার্ড আলাউদ্দিন, প্যানেল চেয়ারম্যান-৩, ইউপি সদস্য, (সংরক্ষিত আসন ) ৭,৮,৯ হাজেরা আক্তার নাজলী, ইউপি সদস্য- ০৬নং ওয়ার্ড ওমর ফারুক সবুজ, ইউপি সচিব মোঃ ফখরুল ইসলাম ব্যক্তিদের সাথে স্ব স্ব ভাবে জিগ্যেস করার পর প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে।

ইউপি চেয়ারম্যান সফি উল্যা বলেন, ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে ৫ জন ছেলে কাজ করে তাদের প্রত্যেককে সরকারি ভাবে কোনো বেতন দেয়া হয় না এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ও কোনো বেতন দেয় না, করোনাকালিন এই কঠিন মূহুর্তে ও মোঃ রিয়াদ হোসেন’সহ আরো ৪জন ছেলে কাজ করে যাচ্ছে, মানবিক বিবেচনায় সকল ওয়ার্ড মেম্বারদের সিদ্ধান্তঃক্রমে, প্রত্যেক মেম্বারের পক্ষ থেকে ৪টি করে কার্ড দেয়া হয়।

মোট মেম্বার ১২জন মিলে ৪৮ টা কার্ড দেয় এবং আমার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আরো ৪টি কার্ড দিয়ে মোট ৫২ টা কার্ডে (প্রত্যেক কার্ডে ১০ কেজি করে চাউল দেয়া হয় ৫২ টা কার্ডে ৫২০ কেজি) ১০ বস্তা ২০ কেজি চাউল ৫জন ছেলের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয় কিন্তু এটাকে কিছু মানুষ ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য রিয়াদ হোসেনের উপর দোস চাপিয়ে দেয় এবং আমার ও ইউনিয়নের মান ক্ষুন্ন করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সাথে স্ব- স্ব ভাবে কথা বললে তারা জানান, আমাদের সকল মেম্বারদের সিদ্ধান্তঃক্রমে করোনাকালিন মূহুর্তে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রত্যেক মেম্বারগণ ৪টি করে এবং চেয়ারম্যান ৪ টি মোট ৫২ টি কার্ড দেয়া হয়, যাতে ৫শ ২০ কেজি চাউল (১০বস্তা ২০কেজি) রিয়াদ হোসেন ও তার সাথে থাকা আরো ৪ জনকে সমানভাগে ভাগ করে দেয়া হয়। কিন্তু কিছু মানুষ এটিকে ভিন্নদিকে নিয়ে যায় এবং রিয়াদের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানা তদন্ত অফিসার, জনাব রবিউল হক জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থল থেকে ১৫০কেজি (৩বস্তা) চাউল উদ্ধার করে স্থানীয় যুবলীগ নেতার কাছে জিম্মাদারি দিয়েছি এবং প্রকল্প কর্মকর্তা স্যারের কাছে অবহিত করেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ট্যাগ অফিসার) জনাব শাহ কামাল পারভেজ জানান, আমি ভিজিএফ প্রকল্পের চাউল বিতরণের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব আছি কিন্তু চাউল বিতরণ সময়ে আমাকে জানানো হয় নি তাই আমি উপস্থিত থাকতে পারি নায়। এই ছাড়া আমি আর কোনো বিষয় সম্পর্কে জানি না এবং আমার এই বক্তব্যটুকু আমি প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।

এদিকে উপজেলা পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) জনাব ফজলুল করিম জানান, করোনাকালিন সময়ে মানবিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ মোঃ রিয়াদ হোসেন ও তার সহযোগিদের কাজের পরিপ্রেক্ষিত যেহেতু কোনো বেতন দেয় না তাই ৪ জনকে কার্ড দিয়েছে এটি আইনগত অপরাধ করেছে। ঘটনার তদন্ত চলতেছে তবে তদন্তের রেজাল্ট আসতে সময় লাগবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফয়সাল আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে ওনাকে পাওয়া যায় নি।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।