ক্যাসিনোর পর শিলং তীরের আসর

ক্যাসিনোর পর শিলং তীরের আসর

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

ক্যাসিনোর পর এবার শিলং তীর নামের অনলাইন ভিত্তিক জুয়ার মাধ্যমেও দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের শঙ্কা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ভারত থেকে পরিচালিত এই জুয়ার আসর সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় শনাক্তের পর মামলা করেছে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

সূএমতে, মেঘালয়ের শিলংকেন্দ্রিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটকে কেন্দ্র করে এই জুয়া আবর্তিত হলেও এখন এগুলোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে একাধিক ওয়েবসাইট তৈরি করে খেলা পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথমে সিলেটের চা-বাগাম শ্রমিকদের মাঝে এই জুয়ার ব্যাপকতা থাকলেও বর্তমানে তা সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।

শিলং তীর খেলায় এক থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যা থাকে। তা থেকে যেকোনো এক বা একাধিক নম্বর বেছে নিতে পারে জুয়াড়ি। এ ক্ষেত্রে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ইচ্ছামতো টাকা এক বা একাধিক সংখ্যার ঘরে ধরা যায়। বেছে নেওয়া সংখ্যা লেগে গেলে বাজি ধরা টাকার ৬০ থেকে ৮০ গুণ বেশি টাকা মেলে। রোববার বাদে সপ্তাহে ছয় দিন এই জুয়া খেলা চলে।

গুলশানের কালাচাঁদপুরে এই শিলং তীর জুয়ার আসরের সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে চার জনকে। তাদের কাছ থেকে ৬টি মোবাইল, একটি রেজিস্ট্রার খাতা, ১-৯৯ পর্যপ্ত নাম্বার বিশিষ্ট ৪টি চার্ট সম্বলিত ব্যবহৃত শিট এবং পাঁচটি অব্যবহৃত চার্ট উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার এঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের এসআই মো. মোসলেহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, ভারতের শিলং থেকে পরিচালিত ওয়েবসাইট নির্ভর খেলাটির বাংলাদেশী এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন শামিম মিয়া, আব্দুল আলী, এরশাদ মিয়া এবং সোহাগ মিয়া। মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে জুয়ারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। খেলায় জিতলে একই সার্ভিসের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মীর মোদাচ্ছের হোসেন জানান, ভারতের শিলংয়ের জুয়ারিরা বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ করে এই খেলার অর্থ সংগ্রহ করে আসছিলো। এজেন্টরা আবার সেলসম্যান নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষকে জুয়ার ফাঁদে ফেলে।

তারা মূলত একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১ হতে ৯৯ নম্বরগুলো বিক্রি করে। যারা এসব নম্বর কেনেন, সেলসম্যানরা তাদের সাথে যোগাযোগ করে টাকা নিয়ে থাকে। এরমধ্যে যারা বিজয়ী হিসেবে গণ্য হয় তারা এজেন্টের মাধ্যমে ৮০ গুণ টাকা পেয়ে থাকে। সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন হয় মোবাইল ব্যংকিং এর মাধ্যমে। তবে, বেশিরভাগ জুয়াড়ি বিজয়ী হতে না পেরে সর্বস্বান্ত হয়।

অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল হক জানান, ১৯৯০ সালে সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের শিলং ও গৌহাটি এলাকা থেকে চালু হয় এই জুয়া খেলা। এরপর পর্যায়ক্রমে জুয়া খেলাটি ছড়িয়ে পড়ে সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তে। সিলেটের অনেককে সর্বস্বান্ত করে জুয়াটি বিস্তার করে নেত্রকোনা জেলায়।

নেত্রকোনা হয়ে ঢাকায় শিলং তীর বিস্তার করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে শামিম ও আব্দুল আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে এরশাদ ও সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসি নাজমুল হক বলেন, গ্রেপ্তারদের গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করে বুধবার (২৬ আগস্ট) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রাজধানীতে ক্যাসিনো জুয়ার লাগাম টানতে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ক্যাসিনোকাণ্ডে অনেককে গত বছর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরইমধ্যে ঢাকায় জায়গা করে নিয়েছে অনলাইন ভিত্তিক জুয়া শিলং তীর। পূর্বপশ্চিমবিডি

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।