গৃহবধূকে ধর্ষণের বিবস্ত্র নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালে ঘুম ভাঙ্গল প্রশাসনের

গৃহবধূকে ধর্ষণের বিবস্ত্র নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালে ঘুম ভাঙ্গল প্রশাসনের

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০

বুরহান উদ্দিন (নোয়াখালী প্রতিনিধি): এবার নোয়াখালীতে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূ গণধর্ষণের পরে শারীরিক নির্যাতনের সময় ধারণকৃত ভিডিও ভাইরালে ৩২দিন অতিবাহিত হবার পর প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গলো আজ রবিবার (৪ অক্টোবর)।

ধর্ষণে এই ঘটনা ঘটে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বড়খাল এর পাশে নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে।

স্থানীয়রা বলছে, গত মাসের (২ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনা ঘটে। মধ্যযুগীয় কায়দায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজ ঘরে ধর্ষণ করে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে স্থানীয় একটি বখাটে বাহিনী।

শুধু এই নয়, ধর্ষণ শেষে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে তার ভিডিও চিত্র ধারণ করে এবং ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ঘটনার ৩২দিন পর গৃহবধূকে নির্যাতনের ঐ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রকাশ পেলে ইতিমধ্যে তা ভাইরাল হয়।

এতে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। ঘটনার থেকে ৩২ দিন পর জড়িত থাকা দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা গণধর্ষিতা গৃহবধূর পরিবারের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এতে পুরো ঘটনা থেকে যায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরে। বর্তমানে নির্যাতিতা ওই পরিবারের বসতঘরে তালা ঝুলছে, ভুক্তভোগি পরিবার নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ রোববার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করে। আটককৃত, আব্দুর রহীম (২৭) একলাশপুর ইউনিয়নের পূর্ব একলাশপুর গ্রামের হাড়িধন বাড়ির বাসিন্দা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ভয়ে গণধর্ষিতার পরিবার এ নিয়ে কথা বলতে ও অনীহা প্রকাশ করে। তাই ঘটনার ৩২ দিন অতিবাহিত হলেও ভুক্তভোগি পরিবার এ ঘটনায় থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি।

বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হারুন উর রশীদ জানিয়েছেন, পুলিশ বতর্মানে ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিমের ঘরে তালা ঝুলছে, ওই গৃহবধূকে তার বসত ঘরে পাওয়া যায়নি। ভিকটিমকে পাওয়া গেলে জানা যাবে এটি গণধর্ষণ না নির্যাতনের ঘটনা।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে এবং নির্যাতিতা পরিবারকে উদ্ধারে জেলা পুলিশের ৫টি ইউনিট মাঠে কাজ করছে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।