চাঁদপুরে ৫ সন্তানের জন্মের পর মৃত্যু

চাঁদপুরে ৫ সন্তানের জন্মের পর মৃত্যু

প্রকাশিত: ৯:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

চাঁদপুর সংবাদদাতা: চাঁদপুরের কচুয়ায় একসঙ্গে ৫ সন্তান প্রসব করেছেন মারুফা বেগম নামে এক মা। শনিবার রাতে কচুয়া টাওয়ার হাসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাভাবিকভাবেই (নরমাল ডেলিভারি) সন্তানদের জন্ম দেন তিনি।

৫ সন্তানের মধ্যে ৪ ছেলে ও ১ কন্যা সন্তান। তবে জন্মের প্রায় দেড় ঘন্টার মধ্যে ৫ নবজাতকই মারা যায়।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বরকড়ই গ্রামের কৃষক মো. ইউনুসের স্ত্রী মারুফা বেগম (২৫)। গর্ভাবস্থার কারণে তিনি বাবার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আন্দিরপাড়ে অবস্থান করছিলেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় প্রসবব্যথা নিয়ে কচুয়া টাওয়ার হাসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন মারুফা। পরে রাতেই নরমাল ডেলিভারিতে একে একে ৫ সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

তবে প্রসবের পরপর হাসপাতালেই মারা যায় তিন শিশু সন্তান। এরপর রাতেই জীবিত অন্য দুই শিশু নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন মারুফা। তবে বাসায় ফেরার পর বাকি দুই সন্তানও মারা যায়।

কচুয়া টাওয়ার হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শাহ জালাল বলেন, মারুফা সাড়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত ৪ দিন আগে তিনি হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করানোর পর ৩টি বাচ্চা দেখা যায়। পরে তার ব্যাথা উঠলে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়।

এ অবস্থায় তার ব্যথা কমানোর জন্য এখানে ভর্তি করা হয়। তবে ট্রিটমেন্ট নেওয়ার এক পর্যায়ে তার জরায়ুর মুখ খুলে গেলে ডেলিভারি হয়ে যায়। বাচ্চাগুলো ছোট ছোট ছিল। কিছুক্ষণ পরেই তিন সন্তান মারা যায়। পরে মৃত ও জীবিত সন্তানদের নিয়ে রোগী এবং তার স্বজনরা চলে যান।

কচুয়া টাওয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক সিনথিয়া সাহা জানান, অপরিণত বয়সে জন্ম হওয়ায় পাঁচ শিশুর মধ্যে তিন শিশু হাসপাতালে মারা যায়।

তিনি জানান, তারা হাসপাতালে আসার পর একঘণ্টার মধ্যেই ডেলিভারি হয়ে যায়। স্বাভাবিক ডেলিভারিতে তিনি ৪টি ছেলে সন্তান এবং একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। প্রতিটি বাচ্চার ওজন সাড়ে ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রাম ছিল।

সিনথিয়া সাহা বলেন, প্রসবের পর আমরা তাদের পরামর্শ দেই- যেহেতু বাচ্চা প্রিমেচুয়ার হয়েছে, তাই দ্রুত তাদের শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। পরে জন্মের আধাঘণ্টার মধ্যেই তিনটি শিশু মারা যায়।

তিনি বলেন, আমরা তাদের ট্রিটমেন্ট দিয়েছি। বাচ্চাদের যে অবস্থা ছিল তাতে তাদের বাঁচানোর মতো কোনো সুযোগ ছিল না।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।