চীনে নতুন ভাইরাস, ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

একে করোনায় রক্ষে নেই। দোসর আবার এসএফটিএস ভাইরাস। পোকা থেকে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। চীনে এই ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। ইতিমধ্যেই সে দেশে ৬০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ৩৭ জন পূর্ব চীনের জিয়াংশু প্রদেশের বাসিন্দা। বাকি ২৩ জন আনহুই প্রদেশের। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের থাবায় মারা গেছেন অন্তত ৭ জন।

জানা গেছে নানজিংয়ের এক নারীর শরীরে কিছুদিন ধরেই জ্বর ও কাশির উপসর্গ ছিল। পরীক্ষায় এই ভাইরাসের সন্ধান মেলে। প্রায় এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসার পর ওই নারী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিশেষ এক ধরনের রক্তচোষা পোকার কামড় থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসের সংক্রমণ। এ ভাইরাসের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দিকাশি, সেইসঙ্গে লিউকোসাইটের সংখ্যা হ্রাস।

কোভিড ভাইরাসের মতো এসএফটিএস ভাইরাস প্রাণঘাতী কিনা, তা এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্তরে আছে। তবে কোভিড থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে না চীন।

জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিংয়ের এক আক্রান্ত নারী জ্বর-সর্দির মতো সাধারণ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। জ্বর না কমায় চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষা করাতে দেন। ফলাফলে দেখা যায়, লিউকোসাইট কমে গেছে। প্লেটলেটের সংখ্যাও স্বাভাবিকের তুলনায় কম। হাসপাতালে রেখে এক মাসের উপর চিকিৎসা চলে। তার পরেই নারী সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরে জানা যায় ওই নারী নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত।

চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের বরাতে গ্লোবাল টাইমসে বলছে, এসএফটিএস ভাইরাস আদতে নতুন ভাইরাস নয়। ২০১১ সালেই এই ভাইরাসের প্যাথোজেনকে পৃথক করা হয়। এটি বুনিয়াভাইরাসের ক্যাটাগরিতে পড়ে।

ভাইরোলজিস্টদের ধারণা, বিশেষ এক ধরনের রক্তচোষা পোকার কামড় থেকেই মানুষের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। তবে মানুষ থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা তারা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

রক্ত বা মিউকাস থেকে ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে বলে সতর্ক করেছেন চীনের ঝিজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসক শেং জিফাং। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পোকার দংশনই হল প্রধান সংক্রমণ রুট। তাই একটু সাবধানে থাকতে হবে। দ্য রয়টার্স 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।