জিপিএ-৫ পেয়েও কাঁদছে তানিয়া

প্রকাশিত: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ির পাশে পরচুলা তৈরীর কারখানায় কাজ করে নিজের লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছেন তানিয়া খাতুন।

দরিদ্র বাবার কাছ থেকে নেননি একটি টাকাও। উপরন্তু পরিবারকে সহায়তা করেছেন তিনি। নিজ মেধা, শ্রম আর অধ্যবসায় দিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

কিন্তু অর্থাভাবে অষ্টম শ্রেণিতেও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়া তানিয়ার এবার বন্ধ হতে বসেছে লেখাপড়া। জিপিএ-৫ পেয়েও কাঁদছেন তিনি।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল গ্রামের দিনমজুর তৈয়ব আলী মন্টু ও আছিয়া খাতুন দম্পতির সন্তান তানিয়া। তিনি চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট তানিয়া। বাবা তৈয়ব আলী কৃষিকাজ ও দিনমুজুরী করেন। মা গৃহিনী। বড় ভাই আতিকুর রহমান ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন।

ছোট ভাই সুজন হোসেন অটোভ্যান চালক। দুই ভাই বিয়ে করেছেন। সবাই একসাথে থাকলেও নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাদের। তাই অবসর সময়ে বাড়ির পাশে পরচুলার কারখানায় কাজ করে নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালিয়েছেন তানিয়া। কিন্তু এত কষ্ট করে ভাল ফলাফল করেও কান্না থামছে না তানিয়ার।

লেখাপড়ার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে কুল পাচ্ছেন না তিনি। কারণ দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে তার বাড়িতে বসে কথা হলে এ প্রতিবেদকে তিনি জানান, রেজাল্ট নিয়ে কখনও কোনো টেনশন হয়নি। তানিয়া জানতেন জিপিএ-৫ পাবেন। তিনি ভবিষ্যতে বুয়েটে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এজন্য এইচএসসিতে ভাল কলেজে পড়াশোনা করে ভাল রেজাল্ট করতে হবে।

কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাঁধা দারিদ্রতা। টাকার অভাবে বন্ধ হতে বসেছে তানিয়ার লেখাপড়া। সেই ভেবে জিপিএ-৫ পেয়েও দিনরাত কাঁদছেন তিনি।

তানিয়া বলেন, রাজশাহীতে যেকোনো একটি ভাল কলেজে ভর্তি হওয়া ও প্রতিমাসের খরচ চালানোর সামর্থ আমার বাবা-মা ও ভাইদের নেই। তারা এত টাকা দিতে পারবে না বলে জানায়। তাহলে কি আমার স্বপ্ন পূরণ হবে না, এখানে আমার জীবন থেমে যাবে? বলেই অঝোরে কাঁদতে থাকেন তানিয়া।

বাবা তৈয়ব আলী ও মা আছিয়া খাতুন বলেন, আমাদের সাধ আছে, কিন্তু সাধ্য নেই। স্বপ্ন আছে, কিন্তু স্বপ্ন পূরণের অর্থ নেই। আমরা চাই আমাদের মেয়ে অনেক বড় হোক, অনেকদূরে লেখাপাড়া করে মানুষের মত মানুষ হোক।

কিন্ত তাকে পড়ানোর মতো টাকা নেই। বাড়িটুকু ছাড়া নেই কোনো জমি। এখন সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষ যদি কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে আমাদের মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে।

চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস রঞ্জন তলাপাত্র বলেন, তানিয়া খুবই মেধাবী ও ভাল ছাত্রী। ভাল রেজাল্ট করা তার জেদ ছিল। তার ফল সে পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু অর্থাভাবে তার লেখাপড়ার জীবন অনিশ্চিত।

 

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ