ফাইল: ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে মোজাম্মেল’র খোলা চিঠি

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

শুভ জন্মদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১০০ বছর চলে গেল। কত মানুষের কত কথা, কত স্মৃতি বয়ে পার করলে এতোটা সময়। তোমার কোলে মাথা রেখে কত অ-মানুষ মানুষ হয়েছে আবার কত মানুষ বিখ্যাত হয়েছে তার হিসেব তো তুমি ভালোই জানো।

তবে তুমি যদি মানুষ হতে, এ বয়সে তোমার কাছে কিছুই আশা করতাম না। সময় দ্রত বদলে যাচ্ছে, তোমারও কিছু পরিবর্তন দরকার। দিন রাত ইতিহাস জাবর কাটার সময় এখন খুব কম।

এতোকাল তুমি আমাদের মানবিক, দর্শন, ইতিহাস, রাজনীতিসহ অনেক কিছু শিখিয়েছ। এখন গুরুত্ব বুঝে নতুন কিছু শেখাও। দরকারের চেয়ে অদরকারি জ্ঞান বিতরণ এযুগে কোন দেশই করতে আগ্রহী নয়।

বস কম বানাও, প্রশিক্ষিত কর্মী বানাও। সবাই প্রশাসক হলে কর্মী হবে কে? সেজন্য হাতেকলমে শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্যে কোর্স চালু করা দরকার।

ধর, এখানে কিছু কিছু বিভাগে ১২০ টা করে ছাত্র ভর্তি করাও বছরে। পৃথিবীর কোন দেশ এযুগে এতো এতো সমাজ বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরো কিছু বিষয়ে বিজ্ঞানী তৈরি করে প্রত্যেক বছর? এগুলো ভাবার সময় এসে গেছে।

বিদেশীরা বছর বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আর আমাদের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে বেকার, কেন? এটাই খুঁজে বের করে দরকারের তাগিদে উৎপাদনশীল নতুন ফেকাল্টি চালু করে হাতে কলমে প্রশিক্ষিত যুব সমাজ গরে তোলো। তারা এই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশে রাখুক। কর্মী দরকার, বস নয়। হুদাই একটা কোর্স এখন আর কেউ চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের খাতা বারাতে চায়না।

ভারত চিন বাংলাদেশের বন্ধু। চিন ই বেশি প্রভাব বিস্তার করবে সামনে। তারা যা দিবে সেটা হবে তাদের বিনিয়োগ; বিনিময়ে চায় বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী তথা বাজার।

দেশ সেই বাজারে যাতে পরিণত না হয় সেজন্য ওই ধরণের পণ্য সামগ্রী তৈরি বিষয়ে লেখাপড়া দিয়ে যুব সমাজকে তৈরি করো। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কারি কারি সনদ হাতে তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

কিছু কিছু বিষয়ে অনার্স মাস্টারস ডিগ্রি চালু রাখার চেয়ে প্রফেশনাল, ডিপ্লোমা কোর্স চালু করো। এতে সময় অপচয় কম হবে। আরো অনেক বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসে গেছে। এখন থিওরি পরার চেয়ে প্রাকটিক্যাল জ্ঞান বেশি দরকার। তোমরা যা পরাও সমাজের সাথে তার কোথাও কোন মিল আছে?

তোমার শিক্ষকগণ যখন কোন বিষয়ে কথা বলেন, খুব সহজেই টের পাওয়া যায় বিদেশের থিওরিগুলো আওরাচ্ছেন; কথাগুলো আমাদের সমাজের নয়। বাস্তবতা বর্জিত আলাপ। আমার সমাজের কথা সেগুলো নয়।

থিওরেটিক্যাল বিষয় বেশি চর্চার কারণে কাজের চেয়ে বাচালতার দিকেই বেশি ঝুকছে লোকে। মনে রাখা দরকার, শিক্ষিত প্রশিক্ষিত কর্মী আর মূর্খ প্রশিক্ষিত কর্মীর কাজের গুনগত মানের অনেক তফাৎ হবে।

বিষয়গুলো মাথায় রেখে উৎপাদনশীল বিষয়ে মানুষকে জ্ঞান দেয়ার পথ খোলা রাখা দরকার। যেকোন বয়সের যেকোন নাগরিকের জন্য এ ধরণের কোর্স চালু করো, কাজে আসবে। ভাবো। আগামীর পথ ভালো হোক , সেই প্রত্যাশা রইল।

 

তোমার ছাত্র
মোজাম্মেল শিশির


লেখক: কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।