তিন-চার দিন পর টেস্ট শুরু করে দেব

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তের কিটের অনুমোদন নিয়ে এখনো জটিলতা কাটেনি। তাই দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা না হলে তিন-চার দিন অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, আমরা আরও তিন-চার দিন অপেক্ষা করব। তারপর আমরা পরীক্ষা শুরু করে দেব, যা ইচ্ছা করে, করুক।রকরোনাভাইরাসে আক্রান্ত জাফরুল্লাহ চৌধুরী বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।

গত বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের সময় একদিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিটের অনুমোদন দিয়েছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

কিন্তু এবার করোনাভাইরাস শনাক্তে জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট’ নামে কিট উদ্ভাবনের প্রায় তিন মাস হতে চললেও তা অনুমোদন পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।

এই। পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে অভ্যন্তরীণ গবেষণা কাজের (ইন্টারনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) অংশ হিসেবে নিজেদের উদ্ভাবিত কিট ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছিল গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

তবে হঠাৎ করে গত সোমবার চিঠি দিয়ে তা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায় ওষুধ প্রশাসন। তাদের এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে করোনা শনাক্ত স্থগিত ঘোষণা দেওয়া হয় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

তবে অতি দ্রুত অনুমোদন ও ওষুধ প্রশাসন সাড়া না দিলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে স্থগিত থাকা করোনা শনাক্ত কার্যক্রম শুরু করবে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, মঙ্গলবার থেকে করোনা শনাক্ত কার্যক্রম শুরু করব। তখন ওষুধ প্রশাসন থেকে আমাদের অনুরোধ করেছিল যে, এটা যেন বন্ধ রাখি।

ওষুধ প্রশাসন কেন এই অনুরোধ করেছিল, তা জানি না। আমরা আরও তিন-চার দিন অপেক্ষা করব। তারপর আমরা আরম্ভ করে দেব, যা ইচ্ছা করে, করুক।

জাফরুল্লাহ বলেন, গত বছর যখন ডেঙ্গু হয়েছিল, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট অনুমোদন দিতে তাদের (ওষুধ প্রশাসনের) একদিন সময় লেগেছিল। আর রেমডেসিভির অনুমোদন দিতে সাত দিন লেগেছে। রেমডেসিভির ইনজেকশন।

ভালোমতো না হলে মানুষের শরীরে ইনজেকশন দেয়া অনেক বেশি বিপজ্জনক। অথচ সেটার দ্রুত অনুমোদন হয়ে গেছে। অপরপক্ষে আমাদেরটা তিন মাস লাগিয়ে দিয়েছে। এখনো এর অনুমোদন হয় নাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে আমাদের দেয়া ৩০০ কিটের পরীক্ষা করে ফেলেছে।

তারা ইচ্ছা করলে দিতে পারে। এই ৩০০ কিটের ভিত্তিতে আমাদের অনুমোদন না দেয়াটা অনৈতিক কাজ।

তারা (বিএসএমএমইউ) কবে নাগাদ রিপোর্ট দিতে পারে, সেটা আমরা কিছুই জানি না। বিএসএমএমইউকে ওষুধ প্রশাসন অনুরোধ করলে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্টটা দাও, তাহলেই এটা হতো।

তারপরও তারা কতটা অনৈতিক, অর্বাচীন কাজ করছে, সেটা প্রমাণের জন্যই আমরা অপেক্ষা করছি। তবে তিন-চার দিনের বেশি অপেক্ষা করব না।’

এদিকে করোনায় আক্রান্ত জাফরুল্লাহ চৌধুরী গতকাল প্লাজমা থেরাপি নিয়েছেন। শারীরিক অবস্থা ভালো আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ