দারিদ্র্যতা রুখতে পারেনি তাদের এসএসসিতে জিপিএ-৫

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

এসএম স্বপন, যশোর-বেনাপোল প্রতিনিধি: অভাব অনটনের সংসার, নুন আন্তে পান্তা ফুরায়। বাবা যেন থেকেও না থাকার মতো। পড়াশোনার খরচ ভালো মতো না জুটলেও, এ অদম্য মেধাবীদের সাফল্যে শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি।

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করেছেন তারা। এদের কেউ স্বপ্ন দেখছেন ডাক্তার হওয়ার কেউবা ইঞ্জিনিয়ার। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে যশোর জেলা ঝিকরগাছা শংকরপুর রাজবাড়ীয়া গ্রামের এ অদম্য মেধাবীদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণের পথ অনেকটাই সুগম হবে।

দু’দরিদ্র ঘরের দু’দরিদ্র সন্তান। একজন গোলাম মোস্তফা অন্যজন আকাশ। দুইজনই একই পথের পথিক। মানে দারিদ্র্যতার করাল গ্রাসে ধরা সায়ী দুই মেধাবী ছাত্রই।

যশোর ঝিকরগাছার শংকরপুর রাজবাড়ীয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা, পিতা পেশায় ঘেরের পাহারাদার। নাম আবুল কাশেম। মাসে যা বেতন পায় তাতে করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ছেলের পড়াশুনার খরচ জোগাবেন কিভাবে?

ভিটে বাড়ি বলতে সম্বল দেড় কাটা জমি। তাতে টালীর একটা সালা ঘর আর সেখানে তাদের বসবাস। ৪ জনের অভাব অনটনের সংসার। তবুও নিজের অদম্য মনোবলে পড়াশোনা করে এ বছর গোলাম মোস্তফা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

মোস্তফা শংকরপুর হরিদ্রাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্বপ্ন তার ডাক্তার হবে। কিন্তু স্বপ্নের পথে বাধা দারিদ্র্যতা। ভবিষ্যতে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা এমন শঙ্কা তাড়া করে তাকে প্রতিনিয়ত।

আরেকজন একই গ্রামের আকাশ। পিতা মনিরুজ্জামান মনি, পেশায় ভ্যানচালক। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় করে তাই দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান। গ্রামের মধ্যে মাত্র দেড় শতক জমিতে টালীর ছাবড়ি ঘরে বসবাস তার। ভ্যান চালিয়ে সারাদিন যা জোটে, তাই দিয়ে কোনোমতে চার সদস্যের সংসার। অনেক সময় অনাহারে দিনকাটে। হয়।

এমন পরিবারে জন্ম নেওয়া আকাশ নিজের ইচ্ছা শক্তি দ্বারা অতি কষ্টে পড়াশুনা করে আকাশ এ বছর শংকরপুর হরিদ্রাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর আকাশের পথের বাধাও ওই দারিদ্র্যেতা।

আকাশের ছোট বোন বাগআঁচড়া গালর্স স্কুলের মেধাবি ছাত্রী। স্কুল একটু দূরে হওয়ায় বাবা প্রতিদিন নিজের ভ্যান চালিয়ে পৌঁছে দেন। দু’ভাই বোনের পড়াশুনা চালাতে তার বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। দারিদ্র্যতার মাঝে আকাশের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি? এমন শঙ্কা তারও।

অদম্য মেধাবী দুই ছাত্রের পড়াশুনার খরচে সহযোগিতা করলে, তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে বলে জানান হরিদ্রাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

কথা হয় শংকরপুর ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা কবিরুজ্জামান মিঠুর সাথে। তিনি জানান, রাজবাড়ীয়া গ্রামের দুই গরিব পরিবারে দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র গোলাম মোস্তফা ও আকাশ। তারা দু’জনই এসএসসি পরীক্ষায় হরিদ্রাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তির্ণ হয়েছে।

মোস্তফা ডাক্তার হতে চায় আর আকাশ ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। কিন্তু তারা অর্থাভাবে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে কিনা সন্দেহ হয়। তাই তিনি সমাজের বিত্তবানদের সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহবান জানান।

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এমএএইচ