দিনাজপুরে ধর্ষণের দায়ে যুবক আটক

দিনাজপুরে ধর্ষণের দায়ে যুবক আটক

প্রকাশিত: ১:০৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

দিনাজপুর সংবাদদাতা: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ। অতঃপর ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ।এমন এক প্রতারক ধর্ষককে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম তানভির আহম্মেদ (২৪)। তানভির আহম্মেদ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পাটিকাঘাট গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে ফুলবাড়ী থানায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে প্রতারণা শিকার এক যুবতী (২০)।

থানায় দায়েরকৃত এজাহারের বিবরণে মতে, তানভির আহম্মেদের সঙ্গে ২০১৯’র জানুয়ারি মাসে মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় তার। পরে স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ফুডকোডে সাক্ষাৎ হয় ওই যুবতীর। এরপর থেকেই মুঠোফোন এবং ক্ষুদেবার্তায় বিয়েসহ বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল তানভির।

একপর্যায়ে চলতি বছরের গত ২২ জুন পৌর এলাকার এসকে টাওয়ার নামের একটি আবাসিক হোটেলের ৪০১ নম্বর কক্ষে ওই যুবতীকে আসতে বলে। তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তানভির কৌশলে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে।

এরপর থেকেই ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার ধর্ষণ করে।

একইভাবে ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি এবং হুমকি দেখিয়ে রোববার আবারো সেই আবাসিক হোটেল এসকে টাওয়ারে আসতে বলে যুবতীকে। যুবতী বাধ্য হয়ে হোটেলে আসলে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ওই যুবতীর কাপড় খোলার চেষ্টা করে তানভির।

এসময় ওই যুবতী কৌশলে তার বন্ধু বাদশা আলীকে মুঠোফোনে ঘটনা জানালে; বাদশা আলী স্থানীয় লোকজন নিয়ে ওই আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করে যুবতীকে। পরে ওইদিন রাতে সোয়া ৯টায় বাদী হয়ে নারী শিশু ও নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ফুলবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন ওই যুবতী।

এসকে টাওয়ার আবাসিক হোটেলের স্বত্ত্বাধিকারী সানোয়ার হোসেন জানান, তার হোটেলে কোনো কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

ওই যুবতীর সহপাঠী বাদশা আলী জানান, তার বান্ধবীকে তানভির আহম্মেদ দীর্ঘ দিন থেকে বিয়ের প্রলোভনসহ ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় দুপুরে এসকে টাওয়ার আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসে। বান্ধবীর কাছ থেকে ক্ষুদেবার্তায় ঘটনাটি জানার পর থানা পুলিশের সহায়তায় ওই আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়।

ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ওই যুবতীর বন্ধু বাদশা ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় যুবতীসহ তানভিরকে এসকে টাওয়ার থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ভিকটিমের বাবা-মাকে খবর দিলে রাত সোয়া নয়টায় যুবতী বাদী হয়ে নারী অ ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।

সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আসামি তানভিরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই যুবতীকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।