বাংলাদেশ ব্যাংক

দুই বছর বাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের অবসরের বয়সসীমা

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে সংসদে বিল পাস করা হয়েছে। এ বিল পাসের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আরো দু’বছর থাকছেন ফজলে কবির।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২০ নামে বিলটি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এরআগে বুধবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।

বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব দেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রওশন আরা মান্না, পীর ফজুলুর রহমান, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ এবং রুমিন ফারহানা।

জনমত যাচাই ও বাছাই করার প্রস্তাবের ওপর তারা আলোচনা করেন। পরে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এখন এই বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে কার্যকর হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবসরের বয়স ৬৫ বছর থেকে ৬৭ বছরের উন্নীত হলো।

জনমত যাচাই বাছাই নিয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের অর্থ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। আমাদের অর্থ ব্যবস্থা কি পরিমাণে দাঁড়িয়েছে যারা আলোচনা করেছেন তারা জানেন। তারা প্রশ্ন করেছেন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব কেন আসছে, আগে কেন করা হলো না।

এইভাবে যদি বিচার করা হয় তাহলে সঙ্গত হবে না। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বিশাল ব্যাপ্তি, তার সঙ্গে তুলনা করে সকল ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে হবে। তারা নিশ্চই অপূরণীয় নিয়ম চান না।

তিনি বলেন, আমাদের পূর্বের গভর্নর যারা ছিলেন তারা সকলেই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ছিলেন। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের আগে বয়স ছিল ৫৭ বছর আমরা যখন চাকরি করতাম তখন ৫৭ ছিল এখন সরকার পরিবর্তন করে ৫৯, ৬০ করেছে।

বিচারপতিগণের ৬৭ বছর পর্যন্ত উপভোগ করছে সুতরাং সময়ের পরিবর্তনে স্বাস্থ্য ভালো হচ্ছে, অনেক বেশি নতুন নিয়ম কানুন আসছে। এটার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে গিয়ে আইন কানুন পরিবর্তন করতে হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা যুক্তিসঙ্গত কথা বলেছেন। তার চেয়ে বেশি যুক্তিসঙ্গত হলো বাস্তবতা। এই বাস্তবতায় যে ধরনের গভর্নর প্রয়োজন তার যে অভিজ্ঞতার দরকার, তার যে শিক্ষার দরকার, তার জন্য যে প্রজ্ঞতার প্রয়োজন, এগুলো বিচার করেই আমরা এই ব্যক্তিকে।

তিনি বলেন, এটা কোন ব্যক্তির বিষয় না, গভর্নর পোস্টের কথা বলেছি। এটা শুধু এর জন্য না। এখন থেকে যারা গভর্নর হবেন এই সংসদ পুনরায় পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এই ৬৭ থাকবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।