দুদকের মামলায় লক্ষ্মীপুরে জজ কোটের গাড়ি চালক কারাগারে

দুদকের মামলায় লক্ষ্মীপুরে জজ কোটের গাড়ি চালক কারাগারে

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ও দুদকের মামলায় লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের গাড়ী চালক নুর হোসেন পাটওয়ারী ও তার ভাই আমির হোসেন পাটওয়ারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এ-দুই ভাইয়ের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকালে এ তথ্যটি নিশ্চিত করে জেলা দায়েরা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন।

তিনি জানিয়েছেন, জেলা ও দায়রা জজ রহিবুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্থন করলে এই দুই আসামীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।এর আগে গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, আসামি নুর হোসেন ও আমির হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের যাদৈয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ উল্যা পাটওয়ারীর ছেলে। নুর হোসেন লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের গাড়ি চালক ও আমির হোসেন একজন ব্যবসায়ী।

অপরদিকে বিবাদীর আইনজীবী এডভোকেট হুমায়ুন কবির জানান, তার মক্কেল নুর হোসেন ও আমির হোসেন দুদকের কাছে সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় আদালত তাদের জামিন অযোগ্য ধারা করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এজাহার সূত্রমতে, আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে থাকার অভিযোগে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২০১৯ সালের ৮ জুলাই নুর হোসেন ও আমির হোসেনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে। এরআগে ওই কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে।

এরআগে ২০১৯ এর ১৯ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় নোয়াখালী কার্যালয়কে ওই দুই ভাইয়ের সম্পদ বিবরণীর আদেশ জারির নির্দেশ দেয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বর নোয়াখালী কার্যালয় বিবরণীর আদেশ জারি করেন।

এরমধ্যে নুর হোসেনকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ও আমির হোসেনকে ১৬ ফেব্রুয়ারি সম্পদ বিবরণীর ফরম বুঝিয়ে দেয়া হয়। তিনি সম্পদের হিসাব না দেওয়া তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এ দিকে দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ তাদেরকে ফরম বুঝিয়ে দিয়ে অফিস কপিতে স্বাক্ষর নেন।

কিন্তু ফরম বুঝে পাওয়ার দিন থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। এমনকি তারা সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি। এজন্য দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।