নাসিমকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ

প্রকাশিত: ১:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তিনি কোমায় রয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) রাতে ফেসবুকে কেউ কেউ মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে গুজব ছড়ান। তার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেও কেউ কেউ পোস্ট দেন।

মোহম্মদ নাসিমের ছেলে তানভির সাকিল জয় বলেন, আমার আব্বা ডিপ কোমায় আছেন। অবস্থা অপরিবর্তিত। উনার অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, নাসিম ভাইয়ের অবস্থা আগের মতোই অপরিবর্তিত আছে।তার অবস্থা সংকটাপন্ন, ওই অবস্থায়ই তিনি আছেন। কিন্তু তাকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

মোহাম্মদ নাসিম এক জন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান। তাকে নিয়ে আগ বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরণের তথ্য প্রচার করা এটা তার প্রতি অসম্মান ও অশ্রদ্ধা করা।

তিনি বলেন, তার পরিবারের সদস্যরা এবং আওয়ামী লীগ পরিবার মোহাম্মদ নাসিমের এ অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ব্যথিত ও বেদনাহত। এর ওপর এভাবে আগ বাড়িয়ে ভুল তথ্য প্রচার করলে পরিবারের সদস্যরা আরও কষ্ট পাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ পরিবারও কষ্ট পায়। তাই আগ বাড়িয়ে কোনো তথ্য বা গুজব না ছড়ানোর জন্য মো. নাসিমের পরিবার ও তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

কয়েক দিন ধরে অসুস্থ নাসিম গত ১ জুন এই হাসপাতালে আসার আগেও একবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করালে ফল ‘নেগেটিভ’ আসে। ওই সময় তার স্ত্রী এবং একজন গৃহকর্মীর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে।

পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও জ্বর-কাশিসহ অন্যান্য অসুস্থতা বাড়তে থাকায় ১ জুন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন নাসিম। সেখানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাতে পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসে। এরপর তিন দিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার সকালে তার ‘স্ট্রোক’ হয়।

শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল রোর্ড সভা করে তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে। চিকিৎসকদের বোর্ড তাকে ৭২ ঘণ্টা পযবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার দুপুরে মোহাম্মদ নাসিমের নিবিড় পযবেক্ষণের ৭২ ঘণ্টা শেষ হয়। তার অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণেই রাখা হবে। যেহেতু তিনি করোনা আক্রান্ত তাই বাইরে কোনো দেশের হাসপাতালেও ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিম পঞ্চমবারের মতো সংসদে সিরাজগঞ্জ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মো. নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মোহাম্মদ নাসিম এক সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯-এর ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮’র নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি সেবার নাসিমের। তবে পরের মেয়াদে ২০১৪ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা।

এখন মন্ত্রিসভায় না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাসিম। পূর্বপশ্চিমবিডি

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ