ফাইল: ছবি

নোয়াখালীর শিশু নাদিয়াকে হত্যার অভিযোগ বাবা’র

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর শিশু নাদিয়াকে হাত-পা বেঁধে আইসিইউতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে ঢাকার ৬৯/ডি গ্রীনরোড পান্থপথ পুরাতন গ্যাস্টোলিভার ভবন ইউনিহেলথ স্পেশালাইজ হাসপাতালে।

১ বছরের শিশু নাদিয়ার বাবার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসে। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে প্রেরিত ভিডিওতে আইসিইউতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা ১নং চরজব্বর ইউনিয়নের চর রশিদ গ্রামের নাদিয়া ইসলাম নামে ১ বছরের শিশুকে।

নাদিয়া ইসলামের বাবা মো. নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ১৯ জুন আমার মেয়ের কপালের ওপর একটি পোড়া উঠতে দেখে নোয়াখালীর শিশু নাদিয়াকে হত্যার অভিযোগ করলেন বাবা। পরের দিন সকালে মেয়ে যখন ঘুম থেকে উঠে তখন দেখা যায় তার বাম চোখ লাল এবং পুলে যায় সাথে জ্বর, ডায়েরিয়া দেখা যায়।

২৩ জুন মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে আমি রাত ১ টার সময় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি দিয়েছি। ২৪ তারিখে ডিউটি ডাক্তার ওয়ার্ডে এসে ঔষধ লেখার ১ ঘন্টা পর ডাঃ লিয়াকত আলী মুন্সি আমাকে ডেকে বলেছেন, আপনার মেয়ে হাটপেল করেছে তাকে আইসিইউতে ভর্তি দিতে হবে তাই তাকে ঢাকা নিতে হবে।

তৎক্ষণিকভাবে আমি একটা এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা নিয়ে যাই। সেখানে বেলা ১টায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি করি। ভর্তির পর ডিউটি ডাঃ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে নেওয়া কেইচ সামারি দেখে আমাকে বলেন, মেয়েকে আইসিইউতে ভর্তি রাখতে হবে। আইসিইউতে ভর্তি দিতে হলে আপনি ফাইলে সই করতে হবে। আপনার মেয়ে মারা গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবেনা।

কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের লোকজন আমাকে বলেছেন, এই হাসপাতালে কোনো আইসিইউ নেই আপনার মেয়েকে অন্য হাসপাতালে নিতে হবে তখন তারা আমাকে ৬৯/ডি গ্রীনরোড পান্থপথ পুরানা গ্যাস্টোলিভার ভবন ঢাকা-১২০৫, ইউনিহেলথ স্পেশালিইজ হাসপাতাল লিঃ দেখিয়ে দেন।

ওইদিন আছরের পর আমার মেয়েকে আইসিইউতে ভর্তি দিয়ে আমরা চলে আসি। পরেরদিন সকাল ১০ টায় আমরা হাসপাতালে উপস্থিত হলে আমাদের রুগী দেখার অনুমতি দেওয়া হয়। আমরা ভিতরে গিয়ে দেখি আমার মেয়েকে একটি নরমাল রুমে রাখা, মেয়ের হাত-পা বাঁধা মুখে মাক্স লাগানো দেখে আমি আমার মোবাইলে ছবি উঠিয়ে নিয়ে কর্তৃপক্ষকে হাসপাতাল থেকে সিট কাটার জন্য বললে তারা সিট কাটতে রাজি হননি।

আমি ঢাকার বড় বড় হাসপাতালগুলোতে যোগাযোগ শুরু করলে আমার হাতে নোয়াখালী থেকে নেয়া কেইচ সামারি দেখে সবাই বলে আপনার রুগীর করোনা টেস্ট নেগেটিভ সাটিফিকেট লাগবে। তা না হলে ভর্তি করা যাবে না।

২৫ জুন আছরের পর আমাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢেকে বলেন, আপনার মেয়ে মারা গেছে তখন আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি এবং আমার স্ত্রীকে সফর করার জন্য বলি।

কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের ছাড়পত্র আমার হাতে আসলে দেখি তাতে ৪০ হাজার টাকা তাদের বিল এসেছে, তখন আমি তাদেরকে বললাম আমিতো বিভিন্ন টেস্ট করার জন্য ২০ হাজার টাকা আপনাদেরকে দিয়েছি ৪০ হাজার টাকা কিভাবে বিল আসে। তারা কেউ আমার সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে মেয়েকে নিয়ে আমি নোয়াখালী আমার গ্রামের বাড়ীতে এনে দাফন কাজ সমাপ্ত করি।

নাছির উদ্দিন বলেন, রোববার (২৮ জুন) বিকালে আমার মোবাইলে একটি মেসেজ আসে আমি মোবাইলে মেসেজটি পড়ে দেখি তাতে লেখা আছে আপনার মেয়ের করোনা (কোভিড-১৯) টেস্ট নেগেটিভ।

তিনি বলেন, আমি চাই না এইভাবে অবহেলায় আর কোনো মা-বাবা’র বুক খালি হোক, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের কাছে আমার আকুল আবেদন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ আরো সেবামুলক হিসাবে পরিচালনা করা হোক।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ