মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহ

পাপুলের সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেনে বরখাস্ত কুয়েতের সেনা কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

কুয়েতে গ্রেফতার বাংলাদেশি সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহ বরখাস্ত হয়েছে। খবর- আরব টাইমস, গালফ নিউজ

কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ অ্যাটর্নি জেনারেল দিরার আল-আসুসির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়ে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহকে বরখাস্তের আদেশ দেন।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করে। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।

পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন তাকে রাখা হয়েছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে।

এমপি পাপুল কুয়েতি কর্মকর্তাদের কীভাবে কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন, সে বিষয়ে রিমান্ডে বিস্তারিত জানিয়ৈছেন তিনি, যা প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রকাশ করছে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

আরব টাইমস জানায়, নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজে সায় দেন।

এমপি পাপুল ২৩ হাজারের বেশি কর্মীর এন্ট্রি ভিসার অনুমোদনের জন্য যাদের ঘুষ দেওয়ার কথা রিমান্ডে বলেছিলেন, তাদের মধ্যে মাজেন আল-জারাহ একজন।এদিকে পাপুলকে সুবিধা দিতে গিয়ে কুয়েত প্রশাসনের ভেতরে আরও কিছু কেলেঙ্কারির খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে আসতে শুরু করেছে।

আরবি পত্রিকা আল কাবাসের বরাতে গাল্ফ নিউজ লিখেছে, দেশটির বিভিন্ন সরকারি দপ্তর সাম্প্রতিক সময়ে পাপুলের কোম্পানির সঙ্গে অন্তত চারটি চুক্তির নবায়ন করেছে, যেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে দুটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত দুই মাসের মধ্যে।

এরপর করোনাভাইরাস মহামারীর যুক্তি দিয়ে সেগুলো নবায়ন করা হয়। এক মিলিয়ন কুয়েতি দিনার বা ৩.২৫ মিলিয়ন ডলারের ওই চার চুক্তির বেশিরভাগই করা হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের বিষয়ে। এর আগে কুয়েতের দুই আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে পাপুলকে সহযোগিতা এবং অর্থ পাচারে জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় গত ২৭ জুন।

এছাড়া প্রসিকিউশনের আবেদনে কুয়েতের জনশক্তি কর্তৃপক্ষের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় এক হোম ডেকর কোম্পানির মালিক এক নারী ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

এমপি পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণকারী হিসাবে চিহ্নিত কুয়েতি কর্মকর্তাদের একজন ওই নারী ব্যবসায়ীর ভাই। ওই কর্মকর্তাসহ তিনজনকে এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা। সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সাংসদ করে আনেন তিনি। প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ভাইস চেয়ারম্যান পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।

পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির ওই হিসাবে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা রয়েছে বলে এর আগে পাবলিক প্রসিকিউশন বরাতে জানিয়েছিল কুয়েতি গণমাধ্যম। আগামী ৬ জুলাই এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের কথা রয়েছে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ