প্রবাসে ভালো নেই প্রবাসীরা

প্রকাশিত: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

প্রবাসে পাখির ডাকে ভোরের ঘুম ভাঙে না, ঘুম ভাঙে ঘড়ির ঘণ্টার শব্দে। যেন যন্ত্রের সঙ্গে জীবনের সুতোটা বাঁধা। ঘণ্টার সুতোটা টান দিয়ে জানিয়ে দেয় ওঠ ওঠ, কাজে যেতে হবে। তাই তো তাড়াহুড়ো করে কাজে ছুটে চলতে হয় প্রতিটি প্রবাসীর।

প্রবাসে যে যেভাবেই আসুক না কেন, বাস্তবতা তাদের জানিয়ে দেয়, বুঝিয়ে দেয়, জীবন কতটা কঠিন। তারা বুঝতে পারে, আর যাই হোক এই বিদেশ বিভুঁইয়ে জীবনে টিকে থাকতে হলে দরকার হাড় ভাঙা পরিশ্রম। অনেকে করে মেধার আবার কেউবা করে শারীরিক পরিশ্রম।

বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি বিশ্বের সব প্রান্তে বসবাস করছেন। এরাই হলো সোনার দেশের সোনার সন্তান।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড় করিয়ে রাখেছেন সোনার দেশের এই সোনার সন্তানেরা।

স্বপ্ন শুধু একটাই, পরিবার তথা দেশ, দেশের মানুষ ভালো থাকুক। প্রবাসীদের খুব বেশি চাওয়া নেই, হাজার প্রবাসী স্বপ্ন দেখে কিছু অর্থ আয় করে দেশে ফিরে যাবে।

ফিরে যাবে প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে, সন্তানের কাছে, বাবা-মায়ের কাছে। কিন্তু দেশে গিয়ে কী করবে? সেই ভাবনা তাদের ঘিরে ধরে রাখে প্রতিনিয়ত।

অনেকে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার ফলে দেশে ফিরে দেখে, যে সন্তানের বয়স ছিল পাঁচ সে এখন ১২ বা ১৫ বছরের কিশোর। এই যে সন্তানকে কাছে না পাওয়ার হাহাকার, আদর করতে না পারার যন্ত্রণা, সেটা কখনও বুঝতে দেয় না কাউকে কোনো প্রবাসী ভাই-বন্ধু।

অনেক সময় দেখা যায়, ভিটেমাটি সব দখল করে বসে আছে অন্যরা বা আপনজনরা অনেক সময় দখল করে রাখে। আর বলে কী জন্য দেশে আইছস?

সবচেয়েই বড় ভয় নিরাপত্তার অভাব দেশে। দেশে গিয়ে নিজ উদ্যোগে কিছু করতে গেলেও নানামুখি বিপদের সম্মুখীন হতে হয় (কৃত্রিম সমস্যা) প্রায় সব প্রবাসীদের।

যাদের অর্থনৈতিকভাবে কোনো সমস্যা নেই, তাদের কথা না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু যারা প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে অল্প আয় করে, তাদের দীর্ঘশ্বাস জানে, তাদের ঘাম জানে, তাদের শরীর জানে প্রবাস কী, শ্রম কী জিনিস!

আজ মহামারি করোনারভাইরাসের কারণে সব কোম্পানী বন্ধ। কর্মী ছাঁটাই, বাইরে কাজ নেই, লকডাউনের কারণে রুমে বন্ধি, ব্যবসা বন্ধ, নিজে চলার জন্য পয়সা নাই। সব সময় যেন করোনা আতঙ্ক, নিজে মারা গেলে লাশটা দেশে যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

অন্যদিকে প্রিয়জনের মৃত্যুতে দেশে যাবার সুযোগটা নেই। নিরাপত্তার জন্য ফ্লাইটও বন্ধ। প্রবাসীরা কয়দিন আগে নিজ দেশের বোঝা হলেও এখন নিজে নিজের কাছে যেন বোঝা, নিজেই চলতে এখন প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে।

এখন একমাএ মহান রাব্বুল আলামিনের (আল্লাহ) দয়া ছাড়া কারো কোনো উপায় নাই। সবকিছু তার ইচ্ছাতেই সম্ভব। মনেপ্রাণে বিশ্বাস, সব ঠিক হয়ে যাবে, সব আগের মতো ফিরে পাবে বেঁচে থাকার প্রাণ।

এখন শুধু প্রয়োজন করোনাভাইরাস (কোভিড১৯) থেকে নিজকে বেঁচে থাকার নির্দেশনা অনুযায়ী চলা।

মো. আলমগীর হোসেন (মালদ্বীপ প্রবাসী)
বার্তা সস্পাদক: ভুলুয়া বাংলাদেশ
ইমেল: infoalam.bd82@gmail.com