প্রশাসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান শুরু

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে চাপের মুখে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা ও দূরদৃষ্টিতায় আস্থা রয়েছে জনগণের। আর এরকম পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ঈদের পরে কি করবেন সে অপেক্ষায় জনগণ এবং রাজনৈতিক বোদ্ধারা সে অপেক্ষায় ছিলেন।

ঈদের আগে থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। অযোগ্য, ব্যর্থ ও যারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না তাঁদেরকে আস্তে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে এটা খুব জানান দিয়ে নয়, রুটিন পরিবর্তন হিসেবে এই পরিবর্তনগুলো করা হচ্ছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, ইতিমধ্যে বেশকিছু পরিবর্তন হয়েছে,সামনের দিকে আরো পরিবর্তন আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই শুদ্ধি অভিযানকে তিনটি পর্বে ভাগ করা যায়।

১ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সব থেকে বেশি দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছিল, মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়হীনতা ছিল প্রকট এবং অনেকে দায়িত্ব যথাযথভ পালন করছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

আর এই অবস্থায় একই সাথে উঠেছিল নানান দুর্নীতির অভিযোগ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এন-৯৫ মাস্ক যেগুলো দেয়া হয়েছিল, সেগুলো যথাযথভাবে দেয়া হয়নি। ভিডিও কনফারেন্সে এটাও শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সাপ্লাইয়ের মালগুলো দিচ্ছে তা যথাযথ কিনা যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে। আর এরপরেই সিএমএইচডি’র পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে একরকম চ্যালেঞ্জ করে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে থাকে।

ঈদের আগেই সিএমএইচডি’র পরিচালককে বদলি করে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবও পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং যেকোন সময় সচিব পরিবর্তন হবে বলে জানা গেছে।

এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদেও পরিবর্তন আসছে বলে সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং নতুন সচিব আসার সাথে সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

২ মন্ত্রিসভায় রদবদল

শেখ হাসিনা করোনা সঙ্কট মোকাবেলার জন্য সরকারকে আরও গতিশীল_বেগবান করার জন্য মন্ত্রিসভায় রদবদল করবেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র আভাস দিয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার রদবদল বাজেটের আগে না পরে হবে তা নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে একাধিক সূত্র বলছে যারা পারফর্ম করতে পারছেন না, যারা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছেন না এই সমস্ত মন্ত্রীদেরকে দ্রুতই অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে এবং মন্ত্রিসভাকে গতিশীল করার জন্য যা যা করা দরকার তা করতে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রধানমন্ত্রীর একক এখতিয়ার। কাজেই তিনি কখন এটা করবেন তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার বলে জানিয়েছেন সরকারের একাধিক ব্যক্তি।

৩ প্রশাসনিক পরিবর্তন

সরকারকে গতিশীল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের উচ্চপদেও রদবদল করবেন বলে জানা গেছে এবং উচ্চপদে এই রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিবের সাথে আরো কয়েকজন সচিবের বদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের মূললক্ষ্য প্রশাসনকে গতিশীল করা, আরো দায়িত্বশীল করা এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেন দুর্নীতির কোনরকম অভিযোগ না আসে তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য যে, করোনাভাইরাস সঙ্কটের শুরু থেকেই সরকার প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে সঙ্কট মোকাবেলা করার জন্য চাইছে এবং এই সময়ে অনেকের দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রী একদম খুশি নন, অসন্তুষ্ট।

অনেকে এই ক্লান্তিকালে মোকাবেলায় যেভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল, সেই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।

এই সমস্ত বাস্তবতায় সরকার প্রশাসনের উচ্চপদে, বিশেষ করে সচিব, অতিরিক্ত সচিব পদে একাধিক রদবদল বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই শুদ্ধি অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো করোনা সঙ্কটের প্রেক্ষিতে সামনে গিয়ে আমাদের যে কঠিন দিনগুলো আসছে, সেই কঠিন দিনগুলোতে যেন সরকার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দ্রুত কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ