প্রাণিসম্পদ কার্যালয় দিচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন!

প্রাণিসম্পদ কার্যালয় দিচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন!

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের দুই মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে গবাদি পশুকে (গরু-ছাগল) মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন (টিকা) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই এলাকায় এ ঘটনায় ওই ২ মাঠকর্মীকে আটক করে রাখেন গবাদি পশুর মালিকরা। পরে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল এবং খুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প চালু রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় গবাদি পশুর অ্যানথ্রাক্স (তড়কা), খুরা এবং পিপিআর রোগের ভ্যাসকিন দেওয়া হয়ে থাকে।

আর উল্লিখিত দুটি প্রকল্পের আওতায় এসব ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সৈয়দপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের একজন করে ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটর এবং একজন করে এলএসপি কর্মরত রয়েছেন।

তাঁরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গৃহপালিত গবাদি পশুকে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) খুরা এবং পিপিআর রোগের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করাসহ লালন-পালনে পরামর্শ প্রদান করেন।

আর এসব ভ্যাকসিন মূলত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

আজ মঙ্গলবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল এবং খুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প মাঠকর্মী ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটর মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠকর্মী এলএসপি মোছা. নাজমুন নাহার উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই গ্রামে ভ্যাকসিন দিতে যান।

গত সোমবার রাতেই স্থানীয় দুটি মসজিদের মাইক থেকে গরু-ছাগলকে ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে প্রচার করা হয়। মঙ্গলবার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এলাকার গরু-ছাগলকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু করেন প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উল্লিখিত দুটি প্রকল্পের মাঠকর্মী।

সকাল ৮টায় শুরু করে এলাকার ১০-১২টি গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এর একপর্যায়ে এলাকার জনৈক লতা মতিন নামের এক গৃহকর্ত্রী একটি বাছুর গরু (বকনা) ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন মাঠকর্মী সাখাওয়াৎ হোসেন।

আর ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরপরই বাছুরটি ছটফট করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্য একটি গরুর মালিক রাশেদুল ইসলাম প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাঠকর্মী সাখাওয়াৎ হোসেনের নিয়ে আসা ছয়টি ভ্যাকসিনের বোতল হাতে নিয়ে দেখতে পান সবগুলোরই মেয়াদোত্তীর্ণ।

এ অবস্থায় গরু-ছাগলের মালিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দুই মাঠকর্মীকে আটক করে রাখেন। পরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হককে বিষয়টি অবহিত করে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ২ মাঠকর্মীর নিয়ে আসা একটি হটপটের মধ্যে ছয়টি ভ্যাকসিনের বোতল রাখা হয়েছে। তড়কা রোগের প্রতিষেধক টিকার একটি বোতলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, প্রাণিসম্পদ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, মহাখালী, ঢাকা ও কুমিল্লা লেখা রয়েছে।

পরিমাণ ১০০ মিলি।মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা রয়েছে মে, ২০১৫ ইং। আরো লেখা রয়েছে- টিকার বোতল রেফ্রিজারেটরে (৪ ডিগ্রি-৮ডিগ্রি সে. গ্রেড) তাপমাত্রায় রাখা বিধেয়। অথচ তা রাখা হয়েছে একটি ভাত রাখার হটপটের মধ্যে। ছাগলের পিপিআর রোগের ভ্যাকসিনের বোতলে কোনো তারিখই উল্লেখ নেই। আর অ্যানথ্রাক্স রোগের ভ্যাকসিনের বোতলের গায়ে সাঁটানো লেবেল ঘষে তুলে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটর মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, আমাকে সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে ভ্যাকসিনগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে তিনি উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না দেখে সেসব নিয়ে এসে দিচ্ছিলেন বলে জানান। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, গরু-ছাগলকে দেওয়ার আগে ভ্যাকসিনের বোতলের লেবেলে লেখা উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখা উচিত আমার।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, ওই ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটরকে অফিস থেকে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়নি।

তিনি আরো জানান, দেড় মাস আগে অফিসে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিন (টিকা) শেষ হয়ে গেছে। আমার অফিস স্টোরে কোনো ভ্যাকসিন নেই। ভ্যাকসিনের জন্য আমি চাহিদা দিয়েছি। তবে উদ্ধারকৃত ভ্যাকসিনগুলো সরকারি। ওই মাঠকর্মী সেসব মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন কোথায় পেল, কিভাবে পেল তা তদন্ত করে দেখা হবে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ বলেন, বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।