প্রতারক ইউপি সদস্য ফকিরহাট

ফকিরহাটে অন্ধের টাকা আত্মসাৎ করলো ইউপি সদস্য

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০
বাগেরহাটের ফকিরহাটে অন্ধের টাকা আত্মসাৎ করলো ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুন।

সাগর মল্লিক,বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট ফকিরহাটে ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুন অন্ধের থেকে টাকা নিয়েও করে দেইনি ভাতা কার্ড। যে এই পৃথিবীর আলো দেখতে পাইনি, দেখতে পাইনি তার বাবা মায়ের চেহারা খানি। তাকেও ছাড়লো না এই ইউপি সদস্য।

উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হাকিম সরদারের পুত্র ফরহাদ সরদার জন্ম থেকে পৃথিবীর আলো দেখতে পাইনা। তাকেও ভাতা দেবার নাম করে ২০০ টাকা নিয়েছে ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুন। টাকা ঠিকই দিয়েছে কিন্তু কার্ড আজো পাইনি ফরহাদ সরদার। এমন নিচু যদি হয় একজন ইউপি সদস্য তবে এলাকার উন্নয়ন আশা করা যায়না তার থেকে।

ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুনের এমন দুর্নীতির তথ্য যাচাইকালে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করায় অনেকেই পেয়েছে জীবন নাশের হুমকি। আর তাদের ভিতর একজন ৬নং ওয়ার্ডের শেখ মোক্তার আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ।
জীবন নাশের হুমকি পেয়ে আব্দুল আহাদ গত ২রা জুলাই ফকিরহাট মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং-৬৫।

এদিকে অসহায়দের সরকারিভাবে ঘর করে দেয়ার নাম করে ইউপি সদস্য হারুন ৫ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে অনেকের কাছ থেকে। তারাও বুকভরা আশা বেধে ছিল। কিন্তু আজও ঘর পাইনি, নিমিষেই ভেংগে গেল সরকারি নতুন ঘরে থাকার স্বপ্ন।

শিশু কার্ডের জন্যেও দাবি করেছে ৩ হাজার টাকা। আর জন্মসনদের জন্য দাবি করেছে ৮০০ টাকা। অন্ধ ফরহাদ সরদার বলছে যারা অন্ধের টাকা আত্মসাৎ করেছে আল্লাহ তাদের যেন অন্ধ করে দেই।

মানবতা আছে তবে মোস্তফা কামাল হারুনের মত ইউপি সদস্যদের কোনো মানবতা নেই। জনপ্রতিনিধি হয়ে অর্থ বাণিজ্য করে নিজে হচ্ছে স্বাবলম্বী, নেই এলাকার উন্নয়ন। এমন অসাধু ইউপি সদস্যদের যতি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপসারণ না করা হয় তবে অচিরেই সাধারণ অসহায় মানুষেরা পড়বে বিপাকে।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশ বলেছেন, বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলাপ করেছি। খুব দ্রুতই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করুন।