ফকিরহাটে ইউপি সদস্য 'আলী আহম্মেদ'র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

ফকিরহাটে ইউপি সদস্য ‘আলী আহম্মেদ’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০

মো. সাগর মল্লিক (বাগেরহাট প্রতিনিধি): বাগেরহাটের ফকিরহাটে ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ শেখ’র বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ উপজেলার লখপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান।

সরেজমিনে অনুসন্ধ্যানে গিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে সড়ক তৈরী কালে অনিয়ম করার সময় ছোট খাজুরা গ্রামের দেলোয়ার মল্লিকের ছেলে আবুল খায়ের মল্লিক (৩৮) বাধা প্রদান করায় ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ শেখ ও তার ছেলে সাহাবউদ্দিন সহ তার লোকজন বেধরক
মারধর করে।

এ ব্যাপারে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা রয়েছে। খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি পদে চাকরি করে ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ শেখ এর ভাতিজা জসিম। রাতে পিকনিকের নামে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলাকালীন সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধৃত হলে পরোক্ষণে ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ শেখ এসে সেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিয়ে ভাতিজাকে রক্ষা করে।

স্থানীয়দের অভিযোগে আরও জানা যায়, এলাকার সামান্য ঝামেলা থেকে শুরু করে স্বামী-স্ত্রী’র মাঝেও ঝগড়া হলে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

একই এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে আব্দুল কারিম বলেছেন, গত ২০১৮ সালে ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ শেখ টিউব ওয়েল দেয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ২ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও সেই
টিউব ওয়েলের দেখা নেই।

আরও এক ভুক্তভোগী মোহাম্মাদ আলী শেখ এর ছেলে হেলাল শেখ বলেন, দুই বছর আগে বিদ্যুৎ সংযোগ এর ব্যবস্থা করে দেবার কথা বলে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এখন পর্যন্ত সেই বিদ্যুৎ লাইনের কোনো খোঁজ পায়নি ভুক্তভোগী। পরে আবারো আবেদন করে অফিসের মাধ্যমে লাইন নিয়ে আসেন।

এদিকে মৃত: আমির আলী হালাদারের ছেলে ইজাজুল হাওলাদার ডালিম জানান, আহম্মেদ মেম্বারের কারণে আমরা গ্রামবাসীরা অনেক অশান্তিতে আছি। আমার ওয়ারেশকায়েম ও আমার বাবার ওয়ারেশ কায়েম অর্থের বিনিময়ে অন্যকে প্রদান করে। এ ব্যাপারে আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকাবাসীর দাবি, অচিরেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক এই ইউপি সদস্যকে। এবং তার পদত্যাগ দাবি করে এলাকার সাধারণ জনগন।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয় নাই। কিন্তু মুঠোফোনে তিনি জানান, আমার অনেক সাংবাদিক পকেটে থাকে প্রয়োজন হলে তাদের সাথে কথা বলবো।

এ ব্যাপারে লখপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস,এম আবুল হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নে কোনো প্রকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবেনা। যদি কেউ জড়িত থাকে তবে
তাকে কোনো ছাড় না দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান বলেছেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা ছিলো না। এখন যেহেতু জানতে পেরেছি সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।