ফকিরহাটে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

ফকিরহাটে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

সাগর মল্লিক(বাগেরহাট প্রতিনিধি):বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা লখপুর ইউনিয়ন জাড়িয়া-কাহারডাঙ্গা এলাকায় গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (১৯) এর রহস্যজনক মৃত্যু হয় তার স্বামীর বাড়িতেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) আনুমানিক বিকাল ৩টার দিকে কাহারডাঙ্গা গ্রামের মৃত: ছালাম শেখ এর ছেলে মো. আজাত এর স্ত্রী শাহিনুর বেগমের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় সংবাদ দেয়।

পরে ফকিরহাট মডেল থানার এসআই নজরুল ইসলাম ও তার সংগীয় ফোর্স নিয়ে লাশ উদ্ধার করে ফকিরহাট মডেল থানায় নিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ মৃত.শাহিনুর বেগমের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি।আজাতের পরিবার ছলচাতুরী করে লাশ নামিয়ে ফেলে।

নিহত শাহিনুর বেগম (১৯) দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের রশিদ মোড়লের মেয়ে। নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে ফকিরহাট মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। তবে এই চাঞ্চল্যকর আত্মহত্যার জট খুলতে চলেছে।

মৃতঃ শাহিনুর বেগমের মায়ের বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ের পেটে একটি বাচ্চা ছিল যা আজাত ও তার পরিবার জোরপূর্বক নষ্ট করে দেয়। যৌতুক হিসাবে আমরা বিয়ের সময়ে ৫০ হাজার টাকা ও বিয়ের পর ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দিই আজাতকে। কিন্তু এতে তার মন ভরেনি।

প্রায় সময় আমার মেয়ে বাড়িতে এসে আমাকে বলতো “মা তোমার জামাই এক লক্ষ টাকা চেয়েছে” কিন্তু আমি দিতে পারিনি। এক পর্যায়ে গত বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১ টার পর ও বেলা ১২ টার আগে মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলে “তোমার জামাই আমাকে গালিগালাজ করে”।

আমি তখন মেয়েকে বুঝিয়ে ভালোভাবে থাকতে বলি। পরে ফোন রেখে দিই আমি। কিন্তু কয়েক ঘন্টার ভিতর দুপুর ৩ টার দিকে জানতে পারি আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়ে কখনও আত্মহত্যা করতে পারেনা। আমার মেয়েকে প্রায়শ এই আজাত অত্যাচার করতো। ও আমার মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে।

অনেকেই দেখেছে ওড়নার গিট যেভাবে দেয়া সেটা কোন মহিলা মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব না। কেননা, এই গিট দেয়া এটতা সহজ না। আর বোঝা যায় আমার মেয়েকে হত্য করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের খুনীর ফাঁসি চাই। এভাবে কান্না জড়িত কন্ঠে এক সন্তান হারা মা তার মেয়ের স্বল্প সংসার জীবনের কষ্টের বর্ণনা করেন।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেছেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হাসান এর সাথে কথা হলে তিনি গনমাধ্যম কর্মীকে জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে যদি হত্যা প্রমাণিত হয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষ দোষিকে আইন এর আওতায় আনা হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।