ফকিরহাট পানের বাজার

ফকিরহাটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

সাগর মল্লিক বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট ফকিরহাটে দিন দিন বেড়েই চলছে করোনা (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জনসাধারণের মাঝে নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা।

এ পর্যন্ত উপজেলায় মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই অবদি) ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ২ জন। এ ছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৫ জন। আর এ সংখ্যা জেলার অন্য উপজেলার থেকে অনেক বেশিই।

এদিকে, প্রশাসনের লোক দেখলেই সবার বাড়ে সচেতনতা, পকেটের মাস্ক ওঠে মুখে। উপজেলা প্রশাসনের প্রচারণা ও কঠোর নজরদারি থাকলেও  মানছেনা কেউ স্বাস্থ্যবিধি। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ সমস্যা বেশিই দেখা
দেখা গেছে।

তা-ছাড়া উপজেলার সবথেকে বড় পান বাজার পিলজংগ ইউনিয়নের টাউন নওয়াপাড়া এলাকায়। আর এই পান বাজারের অবস্থা দেখে মাথা ঘুরিয়ে যাবার মতোই অবস্থা। করোনাকালে প্রশাসনের নিষেধ অমাণ্য করে শতশত লোকের পদচারণায় মুখরিত হয় এই পানের বাজার।

এ খানে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। গায়ে গায়ে মিশে ক্র‍য়-বিক্র‍য় হচ্ছে পান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ
আসে পান ক্রয়-বিক্রয় করতে। বহিরাগত এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কায় করছেনা।

পান বিক্রয় করতে আসা ফরিদ শেখ, মারুফ ঢালী এবং ফিরোজ শেখ বলেন, পান বিক্রি করতে না পারলে পেটে
ভাত যাবেনা। জানি রিস্ক, তবুও কিছু করার নেই। তবে যদি হাট কর্তৃপক্ষ বড় কোনো স্থানে হাট স্থানান্তর করেন তবে সুবিধা হবে।

এদিকে পান বাজার ইজারাদার শেখ মোশারফ হোসেনের মোবাইল (০১৯২২১৪৪৬১৭) নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এখন জনসাধারণের এমন
অসেচনতায় উদ্ভিগ্ন সচেতন মহল।

আর সচেতন মহলের দাবি ফকিরহাট উপজেলার ওপর থেকেই মহাসড়কে যাতায়াত করে শত শত যানবাহন। যা খুলনা থেকে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, ভাঙ্গা, মাওয়া, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা যাতায়াত সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। যার ফলে বিভিন্ন জেলার মানুষ অনায়াসে যে-কোনো অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারছে।

তবে, প্রশাসনের নজরদারি আছে কিন্তু মানছেনা কেউ স্বাস্থ্যবিধি। যার যার খেয়াল খুশি মতো চলাফেরা করছে। যার কারণে এই উপজেলায় এত মানুষ করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেছে।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসীম কুমার সমাদ্দারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হলে নিজ উদ্দোগে সচেতন হতে হবে। এ ভাইরাসের পরিণতি সম্পর্কে সকলের জানা। তাই সকলের উচিৎ ব্যক্তি সচেতনা বৃদ্ধি
করা। তা না হলে করোনা আরও ভয়ঙ্কর হবে।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহানাজ পারভীনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি এবং সহমতের ভিত্তিতে ফকিরহাট বাজার লকডাউন ঘোষণা করি। এতে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি হয়ে যাওয়ায় আমরা একটা সিডিউল করে লকডাউন করেছি। যাতে বাজারে লোক সমাগম কম হয়।

তা ছাড়া উপজেলায় আমাদের প্রচারণা চলছে। আর যারা সরকারি নিয়ম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যবিধি মানছে না,
তাদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়। শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই মহামারীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব না। এই বৈশ্বিক মহামারী করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে সকলের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে।

প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের না হই । যদি ব্যক্তি
সচেতনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় তবেই এই মহামারী কা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।