ফকিরহাটে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এলপি গ্যাস

ফকিরহাটে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এলপি গ্যাস

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

সাগর মল্লিক,বাগেরহাট প্রতিনিধি: কোনো প্রকার সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রসাশনক’কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাস সিলিন্ডার।

এসব সিলিন্ডার বিক্রির ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। লাইসেন্স বিহীন এলপি গ্যাস ও সিলিন্ডারের খুচরা ব্যবসা প্রত্যন্ত গ্রামের মুদি দোকান পর্যন্ত বিক্রি হলেও কর্তৃপক্ষের নেই কোনো নজরধারী।

যে কারনে গ্রামের হাট-বাজার এমনকি রাস্তার পাশে মুদি দোকানেও অবাধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে যে কোন সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামে যারা গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করেন তাদের অধিকাংশই এ ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নেই। এমনকি ওষুধের দোকান, মুদি দোকান’সহ কাপড়ের দোকানগুলোতে এখন চলছে গ্যাস সিলিন্ডারের জমজমাট ব্যবসা।

প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় এসব ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সবিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা বেড়েছে। এ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি এ পর্যন্ত।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফকিরহাট উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা ওষুধের দোকানেও চলছে। সরকারের অনুমোদন লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে এ ব্যবসা।

ট্রাকযোগে সিলিন্ডার পৌঁছে দেন এসব দোকানে। ট্রাক থেকে ছুঁড়ে ফেলে গ্যাস সিলিন্ডার নামানো হয়। এতে যে কোনো সময় বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।মাঠ পর্যায়ে এই সব দোকানিদের ফায়ার লাইসেন্স দূরের কথা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও তাদের নেই।

১০টির কম সিলিন্ডার দোকানে থাকলে লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না এমন আইনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার অধিক সিলিন্ডিার রেখে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী লাইসেন্স না নিয়েই অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

লাইসেন্স আছে এমন গ্যাস ও দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য ট্রাকে করে বিপজ্জনক গ্যাস সিলিন্ডার (এলপি) সাজিয়ে ভাঙাচুরা পাকা-আধাপাকা সড়ক দিয়ে দ্রুত গতিতে চালিয়ে দোকানে দোকানে সরবারহ করছে।

৮টি সিলিন্ডার মজুদ করতে হলেও অধিকতর নিরাপত্তার জন্য অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছেন না খুচরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা।

বিশিষ্ট আইনজীবিদের দেয়া তধ্যমতে, বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি গ্যাস মজুদ করা যাবে না।

একই বিধিতে ৭১নং ধারায় বলা আছে, আগুন নিভানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি রাখতে হবে। এই আইন অমাণ্য করলে সংশিষ্ট ব্যবসায়ীর দুই বছর এবং অনধিক ৫ বছরের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা দণ্ড দিতে হবে এবং অর্থ অনাদায়ী থাকলে অতিরিক্ত আরো ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সেই মোতাবেক ৮টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। আইনের এই ফাঁক ফোকরটিই কাজে লাগাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বোতলে মেয়াদ উর্ত্তীনের তারিখ লেখা নেই, কেউ যানে ও না মেয়াদ শেষ কবে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বলেন, আমরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র দোকানে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করব।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. শাহানাজ পারভীন জানিয়েছেন, লাইসেন্স বিহীন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করুন।