ফাইল: ছবি

ফকিরহাট মডেল থানার ‘এস আই মিজান’র বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ 

প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

মো. সাগর মল্লিক, ফকিরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানার এস আই মোহাম্মদ মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অসৎ আচরণের অভিয়োগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২২ জুন) ফকিরহাট উপজেলার আট্টাকী গ্রামের বিনা বেগম ফকিরহাট মডেল থানায় হাজির হয়ে তার স্বামী একই উপজেলার সাতসৈয়া গ্রামের রয়িজ উদ্দিনের ছেলে বাবুল শেখ কে আসামী করে একটি যৌতুক মামলা করেন। মামলা নং-১১।

আর এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিজান সকালে বাদি বিনা বেগমের বাড়িতে তদন্তে যান। সেখানে যেয়ে তিনি বিনা বেগমের সাথে অসৎ আচরণ করেন এবং বলেন, আমাকে ঘুষ দেয়া লাগবে তা না হলে আমি রিপোর্ট তোমার বিপক্ষে দিব।

এ সময় দরিদ্র বিনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, স্যার আমাকে আমার স্বামী যৌতুকের জন্য ব্যাপক মারপিট করে আমার বাপের বাড়িতে তাড়িয়ে দিয়েছে, এখানে এসে দরিদ্র বাবা-মার কাছে তিন বেলা খাবারও খেতে পারছিনা।
এমতাবস্থায় আপনাকে কি করে আমি ঘুষের টাকা দিব।

এ কথা শুনে ঘুষখোর এস আই মিজান আরও ক্ষিপ্ত হলে এক পর্যায়ে পাশের বাড়ি থেকে ১ এক হাজার টাকা ধার করে এনে দিতে বাধ্য হয়। এ ছাড়াও এ ধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই ‘এস আই’র বিরুদ্ধে। তাছাড়া বেশির ভাগ জায়গায় যেয়ে সে নিজেকে গোপালগঞ্জ এ বাড়ির সেই দাপট দেখিয়ে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।

এ ব্যপারে ফকিরহাট মডেল থানার ‘এস আই’ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফনে (01724210563) একাধিক বার কল দিলেও সে কল রিসিভ করে নাই।

ফকিরহাট মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ আবু সাইদ মো. খায়রুল আনাম’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, বিষয়টির তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় গণমাধ্যম কর্মীকে (সাংবাদিক) বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আবু সাঈদ মো. খায়রুল আনাম’কে দ্রুত আমার কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করতে বলেছি, রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

করোনাকালীন সময় দেশের পুলিশ ডিপার্টমেন্ট অনেক সুনাম করেছে কিন্তু কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের দুর্নীতির কারণে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট’র সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সে দেশকে এগিয়ে নিতে যাচ্ছে; তখন কিছু অসাধু কর্মকর্তারা তা- পিছিয়ে দিচ্ছে। গরিবকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ।

শুধু গরিব অসহায় মানুষ নয়, সুযোগ পেলে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। আর এস আই মিজানের নামে এমন ধরণের অনেক অভিযোগ উঠেছে ইতোমধ্যে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি এখন, এমন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে সৎ ও ন্যায় নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা নেয়া হোক।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ