ফের চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

চীনে নতুন করে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির রাজধানী বেইজিং শনিবার নতুন করে ৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নগরীর কিছু অংশ লকডাউন করা হয়েছে।

বেইজিংয়ের জিনফাদি মাংসের বাজার থেকে নতুন করে ছয়জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর আজ শনিবার এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব থেমে যায় মে মাসের শেষ সপ্তাহেই।

তবে গত দুই দিন ধরে নতুন এই ক্লাস্টার জোন থেকে করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়ায় বাজারটি বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে এই ঘটনায় দক্ষিণ বেইজিংয়ের ১১টি আবাসিক এলাকায় আবারও নতুন করে লকডাউন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রায় নয়টি স্কুল এবং কিন্ডারগার্টেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিংয়ে স্থানীয় সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে।নতুন করে করোনায় যারা সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগেরই অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে স্থানীয় জিনফাদি মাংসের বাজারের যোগসূত্র রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, গত দুই মাসের মধ্যে বেইজিংয়ে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। সংক্রমিত ব্যক্তিরা অনেকে গত সপ্তাহে স্থানীয় সিনফাদি মাংসের বাজারে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে বেইজিংয়ের ভেতর বাইরের কারও আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

নতুন করে যে ছয় জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের তিন জন সিনফাদি মাংসের বাজার কর্মী, একজন বাজার ভ্রমণকারী আর বাকি দুজন ৭ কিলোমিটার দূরের চায়না মিট রিসার্চ সেন্টারের কর্মী। গত সপ্তাহে একজন কর্মীও বাজারে গিয়ে ছিলেন। কর্তৃপক্ষ ওই বাজার বন্ধ করে দিয়েছে।

পাশাপাশি একজন সংক্রমিত ব্যক্তি নিকটস্থ যে সামুদ্রিক খাবারের বাজারে গিয়েছিল, সেটিও বন্ধ করা হয়েছে।

দুটি বাজারে শত শত পুলিশ কর্মকর্তা ও প্যালামিলিটারি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সিনফাদি বাজার চেয়ারম্যান বেইজিং নিউজকে বলেন,ভাইরাসটি আমদানি করা স্যামন মাছ কাটার চপিং বোর্ডে পাওয়ার পর বেইজিংয়ের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে ভীতি ছড়িয়েছে।

বেইজিং বাজারের পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ শহরজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি তদন্ত করতে টাটকা ও হিমায়িত মাংস, পোলট্রি ও মাছের বাজার, ওয়্যারহাউস, কাটারিং সেবা—সব পর্যবেক্ষণ শুরু করছে।

রাতারাতি বড় সুপারমার্কেট চেইনগুলো রাজধানী থেকে তাদের স্যামন মাছ সরিয়ে ফেলেছে। অনেক রেস্তোরাঁ স্যামন মাছ পরিবেশন বন্ধ করে দিয়েছে।

সিনফাদি বাজারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, সবার দ্রুত পরীক্ষার জন্য ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বাজারের কর্মীদের পরীক্ষা হচ্ছে।

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এমএএইচ