বাঘায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

বাঘায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

মুক্তার হোসেন (রাজশাহী প্রতিনিধি): রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যা: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় শত শত মানুষের সমাগমে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধনে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মনগড়া কমিটির সদস্য বৃদ্ধির অনিয়ম অভিযোগ করেছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক আবু সাইদ দশম শ্রেণির ছাত্রের বড় ভাই আবু তালিব বলেছেন, অভিভাবক কমিটি গঠন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোকাররম হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক শাহ আলম (খোকন) প্রস্তুতি কমিটির ব্যাপারে কারও সাথে পরামর্শ না করেই নিচ্ছেন অভিভাবক সদস্য। এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। পুরোপুরি অবৈধভাবে তিনি কমিটি গঠন করার চেষ্টা করছেন।

অভিভাবক বেলাল বলেন, প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে স্কুলের সাবেক সভাপতি হাজী মনসুর পীর অর্থের বিনিময়ে পুনরায় সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করছেন।

কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছে, হাজী মনসুর পীরের ছোট ছেলেকে স্কুলে নিয়োগ দেয়া। এছাড়াও বিগত সময়ে তিনি সভাপতি থাকা অবস্থায় তার দুই ছেলে এবং জামাতাকে স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধা আনছার আলী বলেন,বিদ্যালয়টি যেন সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়।সেখানে কোন অন্যায় এবং দূর্নীতি যেন না থাকে।সামনাসামনি বসে সুষ্ঠ সমাধান করতে হবে।

সদ্য বিদায়ী হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নওশাদ আলী বলেন,প্রধান শিক্ষক বর্তমানে অবৈধভাবে নিজের ইচ্ছে মতোই চালাচ্ছেন সকল কার্যক্রম।

নওশাদ আলী আরও জানান, প্রধান শিক্ষক খোকন আলী বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য হাজী মুনছুর আলী পীর আমার মামাকে বিদ্যালয়টির সভাপতি করার জন্যে নিয়ম বর্হিভূত অভিভাবক কমিটি করার চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, আমার মামা মুনছুর আলী একজন জামায়াত নেতা ছিলেন,এখনো মুনছুর মামা বিভিন্ন সময় গোপনভাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তা করে চলেছে। আমার কথা যদি মিথ্যা হয় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে।

আমি সভাপতি থাকাকালীন এপর্যন্ত ৯৪০ জন শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে উপবৃত্তি দিয়ে আসছি। ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যথাক্রমে ৫ হাজার, ৩ হাজার, ২ হাজার এবং ১ হাজার টাকা করে উপবৃত্তি দিয়েছি।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম খোকনকে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, অভিভাবক কমিটির বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে, পূর্বের সভাপতি নওশাদ আলীর কার্যক্রমে আমরা খুশি।

আরও একজন ইউপি সদস্য বাবু আলী বলেছেন, প্রধান শিক্ষক গোপনীয় ভাবে এডপ্ট কমিটি গঠনে করছে লোকমুখে শুনছি।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।