বাণিজ্য সহজীকরণে বেনাপোল বন্দরে যৌথ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০

এসএম স্বপন (বেনাপোল প্রতিনিধি): দেশের সর্ববৃহত্তম বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য সহজীকরনে কাস্টমস, বিজিবি ও বন্দরের যৌথ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১২ টার সময় এ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন করেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে কমিশনার আজিজুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানান, আগে আমদানি রফতানি বাণিজ্যের সময় একই তথ্য, পণ্য প্রবেশ দ্বারে বাংলাদেশ কাস্টমস,বিজিবি-বন্দরের কাছে ৩ বার এন্ট্রি করতে হতো।

এতে দ্রুত বাণিজ্য সম্প্রসারনে যেমন বাধাগ্রস্থ হতো তেমনি রাজস্ব আদায়েও বাধাগ্রস্ত হতো। এ বিষয়টি নিয়ে ৩ সংস্থা সাথে আলোচনা করে বাণিজ্য সহজিকরনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যৌথ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধনে আমদানি রফতানি বাণিজ্য যেমন গতি বাড়বে তেমনি রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক ট্রাফিক মামুন কবির তরফদার জানান, আগে তিন জাইগায় তথ্য এন্টির কারনে সময় ক্ষেপণে বাণিজ্যে ধীরগতি নেমেছিল। প্রতিদিন ৫০০ ট্রাক যেখানে আমদানি হওয়ার কথা সেখানে ৩০০ ট্রাক প্রবেশ করতো। ৩ টি শাখার সমন্বয়ে এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন বানিজ্যক ক্ষেএে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।

বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার আশরাফ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকার্তাদের নির্দেশে যৌথভাবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে করে আমদানি রপ্তানিতে সচ্ছতা ও গতিশীল বৃদ্ধি বাড়বে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এ্যসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমসের কাছে আমরা যৌথভাবে তথ্য এন্টার আবেদন জানিয়ে আসছি। দেরিতে হলেও এমন ধরনের উদ্যোগ বাণিজ্য তরান্বিত হতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ভারত বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বাংলাদেশ অংশে তিনটি সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে ভেগান্তি হচ্ছিল ব্যবসায়ীদের। এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেল ব্যবসায়ীরা এখন। এমন উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। এ সময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-

বেনাপোল কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম, উপ-কমিশনার শামীমুর রহমান,বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল, সহকারী পরিচালনা (ট্রাফিক) আতিকুর রহমান, বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমানসহ কাস্টমস বন্দর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্মকর্তা,কর্মচারীরা।

উল্লেখ্য, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংস হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য ভারতে রফতানি হয়েে থাকে। আমদাইন পণ্য থেকে সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।