ভারতের পেয়াঁজ আমদানি অনিশ্চিত!

ভারতের পেয়াঁজ আমদানি অনিশ্চিত!

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

এসএম স্বপন(বেনাপোল প্রতিনিধি): পেয়াঁজ আমদানিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রনালয় এর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় টানা ১১ দিন ধরে যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে।

ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারী পাকিং আর সড়কে প্রায় শতাধিক পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক এখনও দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত এসব ট্রাক ছাড় করাতে না পারলে আবারও নতুন করে ক্ষতির শিকার হবেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বাংলাদেশি আমদানি কারককেরা তাদের ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে পুরানো এলসির আটকে পড়া পেঁয়াজ ছাড় করানোর বার বার আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের সাড়া মেলেনি। ফলে দেশে পেঁয়াজ আমদানি অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের স্থানীয় বাজারে পেয়াঁজ সংকট দেখা দেয়ায় দাম আবারও বেড়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে পাইকারী বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা আর খুরচা বাজারে তা ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ অর্ধেক নষ্ট হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে দাবি ব্যবসায়ীদের।

পেঁয়াজ আমদানিকারক শেখ ট্রেডার্সের শেখ মাহাবুব বলেন, প্রতিবছর পেঁয়াজ নিয়ে লংঙ্কাকাণ্ড হয়। ভারত কখনও উৎপাদন সংকট আবার কখনও রফতানি মূল্য তিন গুন বাড়িয়ে আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য করে তারা। এক্ষেত্রে সংকট মোকাবেলায় ভারত ছাড়াও বাহিরের কিছু দেশের সাথে বাণিজ্যিক সর্ম্পক জোরদার করার আহবান জানান সরকারের প্রতি।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সভাপতি মহাসিন মিলন বলেন, তারা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয় পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আবেদন জানিয়েছিলেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এপথে আমদানি অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেছেন, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ওপারের বিভিন্ন পার্কিংয়ে হেফাজতে তাদের প্রায় শতাধিক প্রায় পেঁয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ট্রাকের পেয়াঁজে পঁচন ধরেছে। নিষেধাজ্ঞার আগেই এসব ট্রাক বন্দর এলাকায় পৌঁছেছিলো। দ্রুত এসব ট্রাক না ছাড়লে আবারও নতুন করে তারা লোকশানে পড়বেন।

বেনাপোল বন্দরের পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রেতা শুকর আলী জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম। আর যা আসছে তা অর্ধেক বস্তায় পঁচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে দাম কমছে না। বাইরে থেকে আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একরম বাজার অস্থিতিশীল থাকবে মনে হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সংকট দেখিয়ে ১৪ সেপ্টেবর থেকে বাংলদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এ পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজের ট্রাক দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

পেঁয়াজ দিবে কিনা তাও নিশ্চিত জানাতে পারেনি। তবে এপথে বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে অন্যান্য পণ্যের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক আছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেবর থেকে ২৩ সেপ্টেবর পর্যন্ত ১০ দিনে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৪৪ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য। তবে এসব পণ্যের মধ্যে কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ছিলো না। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয়েছে ১০২৭ ট্রাক পণ্য। তবে এসব রফতানি পণ্যের মধ্যে ৬৭ ট্রাক ছিল পদ্মার ইলিশ।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।