ফাইল: ছবি

ভিটে-মাটি ব্র‏‏হ্মপুত্র নদে…

প্রকাশিত: ১:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা: ব্র‏‏হ্মপুত্র নদীর ভাঙনে গত কয়েক দিন ধরে অন্তত ২০টি পরিবার তাদের মাথা গোঁছার ঠাঁই ভিটেমাটি হারিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনের ভাঙনে মুখে থাকা পরিবার তাদের ঘর, গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও গাছ পালা কেটে সরিয়ে নওয়ার চেষ্টা করছে। ভিটে হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

ব্র‏হ্মপুত্র নদটি ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। ভাঙনের ফলে নদী কেড়ে নিয়েছে ফসলি জমি মানুষের বসত ভিটে। গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার মানুষ সর্বশান্ত হয়েছেন ভিটে-মাটি হারিয়ে।

প্রতিবছর নদী ভাঙনের কবলে পড়েতে হয় উচাখিলার মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দাদের। গত কয়েকদিন ঘরে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ফসলি জমির সাথে বসত ভিটে ভাঙতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অন্তত ২০ টি বাড়ি ভেঙে গেছে নদীতে। আরো অন্তত ৩০ টি বাড়ি ভাঙনের মুখে থাকায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে মানুষ।

নদী ভাঙন এলাকার ভয়াবহতা দেখতে বৃহস্পতিবার সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল মতিন।

এ সময়  ভাঙন কবলিত মানুষ নদীটি মূল জায়গা দিয়ে খনন করে গ্রাম বাসীকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার দাবি জানান। ওই সময় কয়েকশ মানুষ নদী পাড়ে জড়ো হন নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানাতে।

সরেজমিন এলাকাটিতে দেখা যায়, সর্বত্র ভিটে হারনোর আতঙ্ক। মরিচারচর উত্তরপাড়া ও নতুন চর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা শুরু হয়েছে। উত্তরপাড়া এলাকায় অন্তত ২০ টি বাড়ি গত কয়েকদিনে ভেঙে বিলিন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজেদের ভিটে থেকে ঘর, গাছ পালা ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে অনেক পরিবারকে। ফসলি জমি গুলো নদী গ্রাস করছে।

ব্র‏হ্মপুত্র নদটি খনন শুরু হলে স্থানীয় এলাকাবাসী নদীর মূল অবস্থানের দিকে খননের দাবি জানিয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ব্র‏হ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদন করেন।

নদী ভেঙে নতুন পথ তৈরি হওয়ায় মানুষের ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলিন হওয়ায় পুরুনো স্থান দিয়ে খননের দাবি জানিয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু সে কাজ আটকে থাকায় এ বছরও ভাঙতে শুরু করেছে মানুষের বসতভিটা।

মরিচারচর প্রতিরক্ষা বাঁধের কাছে শরিফুল ইসলামের বাড়ি। নদী তার ঘরের কাছে চলে এসেছে। তাই ঘর সরিয়ে এখন বসবাস করছেন আকাশের নিচে। ভ্যানগাড়ি চালক আজিজুল ইসলামের সম্বল কেড়ে নিতে চলেছে নদী।

তাই ভিটের গাছ ও ঘর বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। নদীপাড় জুড়ে এমন চিত্র। একই অবস্থা উসমান, ইন্নছ আলী, জাহেদ আলীসহ অন্যদের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, নদীতে ভাঙনের তীব্রতা শুরু হয়েছে। মানুষ ভিটে বাড়ি হারাচ্ছে। অসহায় পরিবার গুলো নিকটবর্তী খাস জমিতে বসতি গড়তে বলা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ বৃদ্ধি এবং নদীটি পূর্বে জায়গা দিয়ে খনন করে এলাকাবাসীকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ