ভোর ৬টা থেকে লকডাউনে ওয়ারী

প্রকাশিত: ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে রাজধানীর রেড জোন ওয়ারী এলাকা ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হচ্ছে।
পুরান ঢাকার রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত এই এলাকায় করোনা আক্রান্ত ১৭৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এরই মধ্যে ওই এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দঃ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
আগামী ২৫ জুলাই এই লকড ডাউন কার্যকর থাকবে। এই সময়ে সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপনে থাকবে কড়াকড়ি। চলাচলের জন্য প্রধান দু’টি সড়ক খোলা থাকবে।

লকডাউন এলাকায় করোনা নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া অন্যান্য জরুরি সেবাগুলো দেয়ারও ব্যবস্থা করা হবে। লকডাউনের আওতায় আনা ওয়ারীর এলাকা হচ্ছে-

ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে (জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন) আউটার রোড এবং ইনার রোড হিসেবে লারমিনি স্ট্রিট, হরি স্ট্রিট, ওয়ারী স্ট্রিট, র‌্যানকিন স্ট্রিট এবং নওয়াব স্ট্রিট।

ঢাকা দঃ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওয়ারীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে বানানো হয়ে ব্যারিকেড। মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে ‘লকডাউন’ লেখা ব্যানার।ডিএসসিসি জানায়, কেউ লকডাউনের নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লকডাউন এলাকা থেকে কেউ বের হতে বা প্রবেশ করতে পারবেন না। এলাকাটির সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস ২১ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে।শুধু ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এলাকার বাসিন্দারা ঘরের ভেতরে থাকতে হবে। লকডাউনে থাকা এলাকার নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সবকিছু পৌঁছে দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরদারি এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। লকডাউনের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ওয়ারী বলধা গার্ডেনে একটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হকবলেন, সরকারের নির্দেশ মোতাবেক শনিবার ভোররাত ৬টা থেকে ওয়ারী এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। ৪১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলো এ লকডাউন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে ঢাকা দঃ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যেসব দিক-নির্দেশনা দেয়া প্রয়োজন, সেগুলো দিয়ে দিয়েছি। পুরো এলাকায় কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। লকডাউনের আওতায় যে নাগরিকরা থাকবেন।

তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেয়া হবে। খাবার, ওষুধ ও সহযোগিতা নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবে।

লকডাউন এলাকায় জরুরি পরিবহন যাতায়াতের জন্য দুটি গেট খোলা থাকবে, বাকি সব বন্ধ থাকবে। কেউ নিয়ম অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

ডিএসসিসি, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর ওয়ারী এলাকার ১ বর্গকিলোমিটার জায়গায় লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। এলাকাটিতে ১৭৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে ওয়ারী অন্যতম।জনমানুষের বসবাসের পাশাপাশি এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিসসহ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী ওয়ারীর তুলনায় বেশি হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরামর্শ ও নির্দেশনায় ওয়ারী এলাকা লকডাউনের আওতায় আনা হচ্ছে। রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও রাখা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, ওয়ারী এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। পুলিশ সেখানে তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। সাধারণত লকডাউন এলাকায় প্রবেশপথ এবং বহির্পথগুলো যাতে নিরাপদ থাকে সে বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।

লকডাউন চলাকালে ওই এলাকার মানুষ যাতে ঘরে থাকে, অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হয় সেটা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল টিম, মোবাইল টিম ও পেট্রোল টিম কাজ করবে। এছাড়াও পুরো এলাকায় পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমও কাজ করবে।ঢাকা জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদফত এর সঙ্গে সমন্বয় করেই পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন।

করোনা প্রকোপ শুরুর পর সারাদেশে ২ মাস লকডাউনের পর এখন করোনা সংক্রমণের দিকে ঝুঁকিপ্রবণ সব এলাকা চিহ্নিত করে সেগুলোকে অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় পূর্ব রাজাবাজারের পর ঢাকার দ্বিতীয় এলাকা হিসেবে ওয়ারীকে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে।

রাজাবাজার লকডাউনে যেসব অভিজ্ঞতা সেগুলি ওয়ারীতে লকডাউন বাস্তবায়ন করবে প্রশাসন। আর যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি ও চ্যালেঞ্জ রাজাবাজারে ধরা পড়েছে ওয়ারীর ক্ষেত্রে সেগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

পাশাপাশি নতুন নতুন কৌশল, নাগরিকদের মতামত গ্রহণ ও কর্মপদ্ধতি প্রয়োগেরও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এজন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসিকে নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এর আগে,গত ৩০ জুন বিকেলে দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ওয়ারী এলাকা লকডাউনের ঘোষণা দেন।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করুন।