মিয়ানমারে অভ্যুত্থানকারীদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন'র নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানকারীদের ওপর বাইডেন’র নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১

নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারে সেনা অভুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছে নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

সামরিক নেতৃত্ব, তাদের পরিবার এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের ওপর এই আদেশ কার্যকর হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মিয়ানমার সরকারের একশ’ কোটি ডলার সেনাবাহিনী যেন ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সরকার।

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসা জনসাধারণের ওপর বলপ্রয়োগ করছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার রাজধানী নেপিদোতে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন এক নারী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেনা নেতৃত্বের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারে সেনা নেৃতত্বের অবসান দাবি করে স্টেট কাউন্সিলর এবং ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি দাবি করেন জো বাইডেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের জনগণ যা বলছে তা শোনা যাচ্ছে, বিশ্ব তা দেখছেও। প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছিল ৩৪৬টি আসন। সোমবার থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। যদিও ইউএসডিপি ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে।

‘নির্বাচনে জালিয়াতি’র প্রতিক্রিয়ায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মিয়ানমারের অভ্যুত্থানের অবসান এবং অং সান সু চিসহ বেসামরিক নেতাদের মুক্তি দাবি করেছেন। প্রয়োজন পড়লে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জনগণ তাদের বক্তব্য জোরালো ভাবে শোনাচ্ছেন আর দুনিয়া তা দেখছে। বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চাকারীদের ওপর সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য আর আমরা এটি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কারণে মিয়ানমারের বেশ কয়েক জন সামরিক নেতার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তারপরও এই সপ্তাহে অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে প্রথম দফার নিষেধাজ্ঞা জোরালো করা হবে বলে সতর্ক করেছেন জো বাইডেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কঠোর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছি।’ তবে মিয়ানমারের স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সমাজ এবং দেশটির জনগণের সরাসরি কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত সহায়তা যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। সূএ: দ্য রয়টার্স

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।