মুক্তিযোদ্ধা ফারুকের মানবেতর জীবন

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২১

আনোয়ার হোসেন (নিজস্ব প্রতিবেদক): পশ্চিম পাকিস্তান যখন মাতৃভূমিতে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছিল, তখন নবম শ্রেণির ছাত্র ওমর ফারুক নিজেকে ঘরবন্ধি না করে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে।

সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের পূর্বে কলকাতা থেকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও নোয়াখালী নিয়ে গঠিত ২নং সেক্টরে অধিনায়ক গাজী মসিউর রহমানের অধীনে যুদ্ধ করেন মুক্তিযুদ্ধা ওমর ফারুক।

আজ যখন দেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে তখনো একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বলছি, নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার ২নং রামনারায়নপুর ইউনিয়নের বৈকন্ঠপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী ছুয়ানীর সুাগ্য সন্তান বীর মুযোদ্ধা মরহুম ওমর ফারুকের কথা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঢাকায় কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। কিন্তু ২০০০ এর ৮ অক্টোবর নিয়তির ডাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয় মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুককে।

একজন মুক্তিযোদ্ধার গল্প হয়তো এখানে শেষ হতে পারতো কিন্তু এই বীরের স্ত্রী শুরু করেন জীবন নামক যুদ্ধের আরও একটি গল্প। যেখানে একাই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি আর নিকট আত্মীয় ও সমাজ যেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। মৃত্যুকালে ওমর ফারুক স্ত্রীসহ ফারজানা ইয়াসমিন মিতু, ফারহানা ইয়াসমিন ঋতু ও মেহেরাজ হোসেন হৃদয় (দু’মেয়ে ও এক ছেলে)- কে রেখে যান। যদিও তাঁর স্ত্রী ওমর ফারুকের মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করছেন না বলে জানান গণমাধ্যমকে।

মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী খুরশিদা ফারুক জানান, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পরে রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতিটুকু পর্যন্ত দেখতে পারেন নি তিনি। ঢাকায় মৃত্যুর পর তাঁর স্বামীর বন্ধু পরিচয়ে কে বা কারা তাঁর ব্যবহার করা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে জানান ওমর ফারুকের বোন। সেই সাথে হারিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ। স্বামীর বাড়িতে থাকতে না পেরে চলে যান বাবার বাড়ি কেটে যায় অনেকগুলো বছর।

ফিরে এসে ছোট্ট একটি ঘর করে ছোট-ছোট সন্তানদের নিয়ে থাকতে শুরু করেন স্বামীর বাড়িতে। টিউশন, সেলাইয়ের কাজসহ বিভিন্ন কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেন খুরশিদা ফারুক।

এদিকে, বর্তমানে বয়সের চাপে ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংসার চালিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে খুরশিদা ফারুকের। তার ওপরে স্বামীর ভাই-বোনদের প্রতিহিংসা আগুনে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত মুক্তিযুদ্ধা ওমর ফারুকের স্ত্রী। হামলা-মামলা ও স্বামীর সম্পত্তি নিয়ে পর্যন্ত চলছে বিরোধীতা। এমতাবস্থায় বঙ্গকন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার একান্ত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।