লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

প্রকাশিত: ২:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: কয়েক দিনের বৃষ্টি ও বর্ষার শুরুতেই লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। অব্যাহত ভাঙ্গনের কারণে শত শত গাছ পালা বসতভিটা সরকারি বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীনসহ নদীর পাড়ের মানুষের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে রামগতি ও কমলনগরে অনেকে এখন রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।

২০১৯ সালে বেড়ি বাঁধ রক্ষা ও ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবিতে ‘কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ’ উদ্যোগে কমলনগরের হাজিরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিলসহ আন্দোলন সংগ্রাম করলেও এবার ২০২০ সালে বসতভিটা রক্ষায় নদীতে জঙ্গলা বাধঁ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে কমলনগর উপজেলা সাহেবেরহাট, পাটওয়ারীরহাট, চরফলকন, মাতব্বরহাট, লুধুয়া, রামগতি উপজেলার বাংলা বাজার,আসলপাড়া, গাবতলী, বড়খেরী ও রায়পুর উপজেলার চরকাচিয়াসহ দুই উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

এ ছাড়াও চরকালকিনি, মাতাব্বরহাট ও লুধূয়াসহ অন্তত ৩০টি হাট-বাজার, ২০টির ও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১৫টি মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে দাবী করছেন স্থানীয়রা।

রামগতি চরগাজী ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুর রব বেপারী জানিয়েছে, এক সপ্তাহে লক্ষ্মীপুরের ৯৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের রামগতি টাংকির বাজার, সুজন গ্রাম, বড়খেরী, চরআলগীসহ কমলনগরের সাহেবেরহাট,নাসিরগঞ্জ,কাদেও পন্ডিতের হাট,পাটওয়ারীর হাট, চরফলকন, মাতব্বরহাট, লুধুয়া বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যা নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নদী গর্ভে বিলীন হবে যাবে।

স্থানীয় কমলনগর চরকালকিনি ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল্লাহ জানান, প্রতিদিন কয়েকশ মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কমলনগর উপজেলার নাছিরগঞ্জ বাজারে এ বাঁধ নির্মাণ করছেন তারা।স্বেচ্ছা শ্রমে আধা কিলোমিটার বাঁধের জলবাধ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৩ কিলোমিটার জঙ্গল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এ কাজে স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছা শ্রমের মতো সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

কমলনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পী জানিয়েছেন, কমলনগরে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে মেঘনা নদীর নাছিরগঞ্জ বাজার এলাকায় জঙ্গলা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের স্ব উদ্যোগ এ বাঁধ নির্মাণ সন্তুুষ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করা হবে স্থানীয় প্রশাসন থেকে। বিষয়টি তিনি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করবেন।

লক্ষ্মীপুরে দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফারুক আহাম্মেদ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে শুধু কমলনগরে চর ফলকনে দ্রুত নদীর মাঝখানে সড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। এছাড়া নতুন করে বরাদ্ধ না আসায় দ্রুত দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের কাজ শুরু কাজ হচ্ছেনা।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলছেন, ইতোমধ্যে ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের ১৬ কিলোমিটার বাধের জন্য ১৭’শ ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করুন।