যেভাবে বেঁচে গেল ৭ বছরের শিশুটি!

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০

রাজধানীর গুলশান জোনের বাড্ডা থানার সাতারকুল এলাকায় ছোট্ট মেয়ে সামিয়া (৭)’র বাসা। বাবা রিকশার ১টি গ্যারেজের মালিক। সেই গ্যারেজের রিকশা নিয়ে ভাড়ায় চালাতেন জাহিদ (২০) এবং আবদুল জলিল (১৯) নামের এই দুই অপহরণকারী।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যসূএ মতে, গত বুধাবার বিকেলে শিশুটিকে অপহরণ করে জাহিদ এবং জলিল নামের এই দুই অপহরণকারী। এরপর শিশুটির বাবাকে ফোন করে চাওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ।

এখানেই শেষ নয়; ৫ লাখ টাকা না দেয়া হলে জানে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয় মোবাইলে। এমন হুমকিতে দিকবিদিক সামিয়ার বাবা।

সামিরার বাবা তাৎক্ষণিক কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। পরে ছুটে গেলেন বাড্ডা থানায়, সবকিছু শুনে পুলিশ তাকে আশ্বস্ত করলেন। এরপর তার দেয়া প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরেই শুরু হয় তদন্ত। পুরো রাত চলে প্রযুক্তির সাথে পুলিশের বুদ্ধিদীপ্ত তদন্ত কৌশলের মিশেল।

এরপর রাত পেরিয়ে ভোর। শেষ পর্যন্ত অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ বাহিনী। এর প্রেক্ষিতে করা হয় অপরেশন প্ল্যান। পরদিন সকালে টার্গেটকে নির্দিষ্ট করে অভিযান চালায় পুলিশের একটি চৌকস দল। অভিযান হয় শতভাগ সফল।

পুলিশের তথ্যসূএ মতে, সামিরা’ কে জীবন্ত উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু তখনও সামিয়া’র হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল। পুলিশের প্রাথমিক শুশ্রূষায় সুস্থ হয়ে ওঠে ছোট্র মেয়ে সামিয়া।

তাৎক্ষণিক গ্রেফতার হয় দুই অপহরণকারী ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় অপহরণ কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু, রশি এবং স্কচটেপ। পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া অপহরণকারীদের তথ্যে প্রকাশ পায় গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য।

অপহরণের পর প্রত্যাশিত মুক্তিপণ না পাওয়ায় ছোট্র শিশুটিকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা এবং হত্যার জন্য সব আয়োজনও রাখা হয়েছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ড চালানোর মূহুর্তেই পুলিশ এসে পাকড়াও করে। এতেই ভেস্তে যায় তাদের পরিকল্পনা!

বাংলাদেশ পুলিশের সফল এবং বুদ্ধিদীপ্ত অভিযানে এভাবেই রক্ষা পায় ৭ বছরের ছোট্ট মেয়ে সামিয়া’র জীবন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে বাবার চোখে আনন্দ-অশ্রু ঝরতে থাকে। পরে পুলিশের প্রতি জানালেন একরাশ কৃতজ্ঞতা।

তথ্যসূএ: Bangladesh Police ফেসবুক আইডি থেকে

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ