রাজনৈতিক পরিচয়ে টেক্সি ড্রাইভার থেকে দুর্ধর্ষ মিজান ক্যাডার

রাজনৈতিক পরিচয়ে টেক্সি ড্রাইভার থেকে দুর্ধর্ষ মিজান ক্যাডার

প্রকাশিত: ২:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে রাজনৈতিক পরিচয়ে টেক্সি ড্রাইভার থেকে দুর্ধর্ষ ক্যাডার হয়ে উঠেছে মিজান। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের পেশকারহাট এলাকায় গড়ে তুলেছে নিজস্ব মিজান বাহিনী।

জানা গেছে খুন, ধর্ষণের চেষ্টা, মাদক ব্যবসা,চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজী করা, রাহাজানি, জবর দখল’সহ এমন কোনও বে-আইনী কর্মকাণ্ড নাই যা মিজান বাহিনী দ্বারা হয় না।
তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা’সহ রয়েছে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বেশ কয়েকটি মামলা। এসব ধরণের মামলায় মিজান ক্যাডার গ্রেফতার হলেও জামিনে এসে নববলে বলিয়ান হয়ে পুরোদমে চালিয়ে বেড়াচ্ছে নানান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

মিজান বাহিনীর প্রধান মিজানুর রহমান (৪৮) উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রাস্তারমাথা এলাকার মৃত তোফাজ্জল আলম’র ছেলে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে মিজান টেক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত।

এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শ্রমিকলীগের ব্যানারে গড়ে তুলেন তার নিজস্ব বাহিনী। তার হাত থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরাও নিস্তার পাচ্ছে না। ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে মিজান অস্ত্রসস্ত্রে ঝাপিয়ে পড়ে অস্থিতিশীল করে তুলে এলাকার শান্ত পরিবেশ।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিনা উস্কানিতে অস্ত্রসস্ত্রে আক্রমণ করে আহত করে ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা তারা এখনও হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে।

এরা হলেন- মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক এমদাদুল হক, বসুরহাট পৌর ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এহছানুল হক বিজয়, চরকাঁকড়া ইউপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হানিফ সবুজের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ও চরকাঁকড়া ৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন নোমান।

এ ধরনের আক্রমণে তার বাহিনীর কেউ আহত না হলেও প্রতিপক্ষের নামে থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা গোলাম মাওলা সারেং হত্যা মামলার অন্যতম আসামী।

এছাড়াও রাস্তারমাথা এলাকার আহছান উল্যাহ, আলা উদ্দিন নেতা, মনচুর আলী হাজী বাড়ীর পারভেজ, জয়নাল মিয়ার পুরান বাড়ীর হানিফ মিয়া, কাশেম মেম্বার, নির্ঝর গ্রুপের মালিক জয়নাল মিয়া সহ অনেক নিরীহ সাধারণ মানুষ তার অত্যাচারের শিকার।

তার নিজ বাড়ীর জাহানারা নামের এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে মিজান ক্যাডার। এ ব্যাপারে মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে বারবার কল করেও তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, মিজানের বিরুদ্ধে গতকাল এমদাদুল হক জয় নামের এক যুবক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের ৫টি টীম কাজ করছে। এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জে যে-কোনও বাহিনীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।