টাংকির ঘাট নতুন ইজারাদারের নিকট হস্তান্তর

রামগতি-হাতিয়া সীমান্তে টাংকির ঘাট নতুন ইজারাদারের নিকট হস্তান্তর

প্রকাশিত: ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর টাংকির ঘাট দীর্ঘ ৭ বছর থেকে নামমাত্র ইজারা দিয়ে আসছে হাতিয়ার হারণী (প্রস্তাবিত) ইউনিয়নের প্রশাসক মুশফিকুর রহমান।
স্থানীয় দুলাল মাঝি নামে এ ব্যক্তি ঘাটটি পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে দখলে রেখেছেন।

তবে চলতি অর্থবছরের জন্য ঘাটটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বৈধভাবে ইজারা নেন আবদুল ওয়াহেদ নামের আরেক ব্যক্তি। ফলে বৈধ-অবৈধ দুই ইজারাদারের মধ্যে বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইউপি কার্যালয় থেকে কোন ধরণের ঘাট ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে জানায় হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন। যদিও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রতি বছর অবৈধভাবে ইজারা দিয়ে আসছেন হরণী (প্রস্তাবিত) ইউনিয়নের প্রশাসক মুশফিকুর রহমান। তার দাবি- ঘাট ইজারা দেওয়া এখতিয়ার তার আছে।

তবে এ বিষয়ে কথা হয় উপকূলীয় এলাকার অন্তত্য তিনজন ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে। তদের দাবি- কোন ধরণের হাট বাজার বা ঘাট ইউনিয়ন পরিষদ ইজারা দিতে পারে না। যদিও দেয়, সেটা বৈধ নয়।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন ও নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়ের সীমান্তে মেঘনা নদীর টাংকির বাজার। দুই জেলার সীমান্তে হওয়ায় বাজার ও ঘাট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় দুই উপজেলার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করে এটিকে আন্তজেলা ঘাট হিসেবে চিহিৃত করার জন্য দুই জেলা থেকে প্রস্তাব দেয়া হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ, চট্রগ্রাম থেকে ঘাটটিকে আন্ত:জেলা ফেরীঘাট হিসেবে নামকরণ করা হয়।

চলতি অর্থ বছরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে পত্রিকার মাধ্যমে ঘাটটি ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হলে ২১ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘাটের ইজারা নেন রামগতির চর রমিজ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আবদুল ওয়াহেদ।

স্থানীয় সরকার চট্রগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী ঘাটটির দখল ইজারাদারকে বুঝিয়ে দিতে গত ২৮ জুন নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেন।

এতে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ মালিকানাধীন জালিয়া খালীর ঘাট নদী ভাংগার ফলে লক্ষ্মীপুর জেলা রামগতি উপজেলার ৭ নং চর রমিজ ইউনিয়নের ভাংগা রাস্তার মাথা সওজ টাংকির খাল এবং নোয়াখালী জেলার মৌলভীচর-হাতিয়া ফেরীঘাটের দখল বুঝিয়ে দিতে বলায় হয়। যার স্বারক নং-০০. ৪২. ০০০. ৪১. ০৫. ০৪৩. ২০২০- ১৫১। চিঠির অনুলিপি দুই জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ সুপার, রামগতি ও হাতিয়া উপজেলা ইউএনও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা পরিষদ থেকে গত ২ জুলাই ঘাটের দখল প্রকৃত ইজারাদারকে বুঝিয়ে দিতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। হাতিয়া উপজেলা হরণী (প্রস্তাবিত) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছ থেকে নেওয়া ইজারাদার ঘাটটির দখল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। নিজেকে বৈধ ইজারাদার দাবি করে তিনি জানান, গত সাত বছর থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাৎসরিক পাঁচ হাজার টাকায় ঘাটটি ইজারা নেন। তাই তিনি ঘাটের দখল ছাড়তে রাজি নন।

এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা হরণী (প্রস্তাবিত) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মুশফিকুর রহমান বলেন, গত সাত বছর থেকে আমি এভাবে ঘাট ইজারা দিয়ে আসছি। এখন শুনেছি আরেক পক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ঘাটের ইজারা এনেছে।

তবে আমি ইজারা দিয়েছি টাংকির ঘাট থেকে চর গাচিয়া। আর তারা ইজারা এনেছে টাংকির ঘাট থেকে মৌলভীরচর। ঘাট ইজারা দেওয়ার কোন এখতিয়ার তার আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ছোটখাটো ঘাট বা বাজার ইউনিয়ন পরিষদ ইজারা দিতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘাটটির ইজারা প্রতি বছর ৫ হাজার টাকা নিলেও প্রশাসক মুশফিকুর রহমানকে লাখ লাখ টাকা দিতে হয়। ফলে তিনি অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ঘাটের ইজারা দিয়ে যাচ্ছেন এবং দুলাল মাঝির পক্ষে সেখানে প্রভাব বিস্তার করছেন।

তবে ইউনিয়ন পরিষদ ঘাট বা বাজার ইজারা দিতে পারেনা বলে জানিয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘এরকম কোন এখতিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের নেই। জেলা এবং উপজেলা পরিষদ হাট বা ঘাটের ইজারা দিতে পারে। কেউ দিয়ে থাকলেও তা বৈধ নয়।’

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করুন।