রায়পুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ী ভাংচুর, আহত ২০

রায়পুরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল’সহ পূর্ব শক্রতার জেরে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রক্তাক্ত জখম ২০ নেতাকর্মী আহত এবং একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ১১ টার দিকে রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউপির খাসের হাট বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ৩ থানার পুলিশ (রায়পুর, সদর ও হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ি) ওই ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের লোকদের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহ্বায়ক রহুল আমিন ফলীফা ও সাবেক আওয়ামী লীগের নেতা’সহ সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার ভাতিজাসহ তাঁদের অনুসারী মো. আওলাদ হোসেন ও রুহুল আমিন ফলিফার ছেলে ও রাশেদ খলিফা গ্রুপের মধ্যে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট-লেখা ও দেখে নেয়ার হুমকি’কে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় পান্নু মাঝি, সবুজ হাওলাদার, মাইনুদ্দিন আসামী, সোহাগ দেওয়ান, আব্দুল কাদের,রুহুল খলিফা, মুযাহিদ, জসিম,বাবু, সাহাবুদ্দিন আসামী, রাসেদ, ইমন, সিদ্দিক, জুলহাস, ইব্রাহিম, সোহেল ২০ নেতা-কর্মী রায়পুর, লক্ষ্মীপুর সদর ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ মাষ্টারকে কেন্দ্র করে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মকান্ড চলছিলো। কয়েকবার সংঘর্ষ, ভাংচুর, আহত ও পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলা হয়েছে। মামলাগুলোও বর্তমানে চলমান।

এদিকে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে আ’লীগ নেতা ওসমান খাঁ ও আলাউদ্দিন খাঁ আলতাফ মাস্টারের সাথে মিমাংসা হয়ে যান ও মামলা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছিলো।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে ওসমান খাঁ গ্রুপের রুহুল আমিন খলিফার অনুসারী এক কর্মী ‘খাসেরহাট স্বাধীন হয়েছে ও প্রয়োজনে আবার স্বাধীন হবে’ এমন লেখাকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের মধ্যে ফেসবুকে হুমকি-ধমকি শুরু হয়।

এর জের ধরে শুরক্রবার রাতে রুহুল আমিন ও রাশেদ খলিফার নের্তৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন কর্মী আলতাফ মাস্টারের কার্যালয় সামনে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় বাধা দেয়ায় আরো ১৫ জন কর্মীকে পিটিয়ে আহত ও কার্যালয়সহ মাস্টারের একটি প্রাইভেটকার ভাংচুর করে পালিয়ে যায়।

এঘটনায় রুহুল আমিন ও রাশেদ খলিফা জানান, শুক্রবার রাতে আ’লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে দলীয় সভা করছিলাম। এ সময় সবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ মাস্টারের ভাতিজা আলাউদ্দিন মিথ্যা অজুহাতে ঝগড়া লাগিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে। আমাদের ৬ নেতা-কর্মী লক্ষ্মীপুর ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।