রায়পুরে আদম ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য!

প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২১

দেলোয়ার হোসেন মৃধা (রায়পুর): লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে দুবাই প্রবাসী শরিফ ক্বারী ও তাঁর স্ত্রী সাজেদা এবং স্থানীয় মাতাব্বর দাদন মিয়া ক্বারীর খপ্পরে পড়ে একাধিক কলেজ ছাত্র আতিক হাসান রনি,সুজন দেওয়ান ও সজিব দেওয়ান নামের তিন যুবক প্রায় ১২ লাখ টাকা হারিয়ে বিদেশে জেল খেটে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরেছে।

বিদেশের নাম করে প্রতারণা ও খচ্চিত টাকা ফেরত চাইলে প্রতিপক্ষের লোক তাদেরকে মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন। ঘটনাটি ঘটে রায়পুর উপজেলা দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে।

এবিষয়ে স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্থরা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের কালু বেপারি বাজারের ক্বারী বাড়ির শরিফ ক্বারী দুবাই থাকার সুবাদে তাঁর স্ত্রী সাজেদা বেগম ও একই বাড়ির দাদন মিয়া ক্বারী দুবাই’র কাজের ভিসা দিবে বলে আলমগীর হাওলাদার’র পুত্র কলেজছাত্র আতিক হাসান রনি,জলিল দেওয়ান’র পুত্র সুজন দেওয়ান ও সাজান দেওয়ানের পুত্র সজিব দেওয়ান থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেয়। তাদের ৩ মাসের দুবাইর ভিজিট ভিসা নিয়ে স্থানীয় এয়ারপোর্ট রিসিভ করেনি তারা।

পরে তাহারা আত্মীয়দের সহযোগিতায় কিছুদিন সেখানে অবস্থান করেন। অনেক খোঁজাখুজি করে তাদের নিয়োগ কর্তাদের খুঁজে না পেয়ে পুলিশ তাদের হাজতে রাখে। পরে কয়েকমাস জেল খেটে তারা দুবাই থেকে বাড়ি ফিরেন।

এরপর দেশে এসে ওই যুবকরা হারানো টাকা ফেরত পেতে আদম ব্যবসায়ী শরিফ ক্বারী ও দাদন মিয়া ক্বারীর বাড়িতে প্রতিদিন আসা যাওয়ার মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় উভয় পক্ষের হুমকি ধামকি বিনিময় হয়।

গত বুধবার (১৪ জুলাই) আদম ব্যবসায়ী দাদন মিয়ার পুত্র মাছুম বিল্লাহ থেকে মোটর বাইক আটকিয়ে প্রবাস ফেরত যুবকেরা তাদের থেকে নেয়া টাকা দাবী করলে ওই আদম ব্যাবসায়ীর ছেলে মাছুম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় আতিক হাসান রনি’সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদবাজীর মামলা দায়ের করেন। সৃষ্ট এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাজিমারা ফাঁড়ির এসআই মিজান আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তিনি বলেছেন, মামলার এ বিষয়টি তদন্ত চলছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত দাদন মিয়া ক্বারীর সাথে সরেজমিনে কথা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে সালিশদারের মাধ্যমে সুজন দেওয়ান ও সজিব দেওয়ানকে ৫ লাখ টাকার ফেরত দেয়ার কথা সালিশে রায় দেয়া হয়। কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুর রশিদ মোল্লা বলেন, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে করোনাকালীন (কোভিড-১৯) সময়ে একদল প্রতারক চক্র নিরীহ লোকজনকে ভুলভাল বুঝিয়ে দুবাই কাজের ভিসা দিবে বলে গত কয়েক মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কয়েকজনের অভিযোগের আলোকে কিছু টাকা সালিশদারের মাধ্যমে ফেরত নিয়ে দিয়েছি। এখন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ প্রতারকদের আইনের আওয়তা এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।